রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের দাবিটি মিথ্যা

সম্প্রতি, বাংলাদেশের মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন লাইভে এসে পদত্যাগ করেছেন দাবিতে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

টিকটকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেননি বরং, ভিন্ন প্রেক্ষাপটের দুইটি ভিডিও জোড়া লাগিয়ে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ১২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওর শুরুতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য দেওয়ার একটি দৃশ্য রয়েছে এবং পরে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিন ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও রয়েছে।

উক্ত ভিডিওগুলো আলাদাভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।

ভিডিও যাচাই-১

অনুসন্ধানে সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিও ও বক্তব্যের সাথে আলোচিত ভিডিও ও বক্তব্যের মিল রয়েছে।

সময় টিভি ক্যাপশনে উল্লেখ করেছে, সুপ্রীম কোর্ট দিবস অনুষ্ঠানে যে কারণে ক্ষমা চাইলেন রাষ্ট্রপতি!

এছাড়া, পুরো বক্তব্যে পদত্যাগ সংক্রান্ত কিছু বলেনি৷

ভিডিও যাচাই-২

অনুসন্ধানে জার্মান ভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকার পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিও এবং বক্তব্যের সাথে আলোচিত ভিডিও ও বক্তব্যের মিল রয়েছে।

উক্ত ভিডিওতে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিন সাবেক উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেওয়া একটি সাক্ষাৎকার। সেখানেও পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ করেনি।

এছাড়া, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং গণমাধ্যমে (, , ) এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ অবধি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের নাম উল্লেখ থাকতেই দেখা যায়। এমনকি আজ (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত আছে এবং নবনির্বাচিত সরকার চাইলে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে থাকবেন। অর্থাৎ, এই বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে; তিনি এখনো রাষ্ট্রপতির পদে আছেন।

পাশাপাশি, একটি দেশের রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, লাইভে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: