অপ্রাসঙ্গিক ছবি ব্যবহার করে দিল্লী থেকে নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার ভাষণের ভুয়া দাবি প্রচার 

২০২৪ সালে বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সময় অডিও কলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইমেইলের মাধ্যমে ভারতসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তবে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের দিল্লী থেকে শেখ হাসিনা গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতের দিল্লী থেকে প্রকাশ্যে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, একটি এআই নির্মিত ছবি এবং দুটি পুরোনো ছবি একত্রে সংযুক্ত করে আলোচিত দাবিটি ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে।

১ম ছবি যাচাই 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বিশ্বস্ত কোনো সূত্র বা প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে ছবিটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। ছবিটিতে এআই জনিত বেশকিছু ত্রুটি যেমন ‘JOURNEY’ নামক সংবাদমাধ্যমের লোগো (বাস্তবিক এ নামে কোনো গনমাধ্যম নেই) এবং পেছনে উপস্থিত মানুষের অস্বাভাবিক ক্যামেরা ভঙ্গি লক্ষ্য করায় রিউমর স্ক্যানার ছবিটিকে ডিপফেক ও মিটার টুলের ‘SIA’ মডেলে পরীক্ষা করে। মডেলটির বিশ্লেষণে জানা যায়, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

২য় ছবি যাচাই 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ২৫ জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একই ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়। ‘PM seeks justice from countrymen for mayhem’ শিরোনামে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঐ সময়ে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশন সরেজমিনে পরিদর্শনে যান তিনি। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এটি মূলত সেদিনেরই ছবি।

৩য় ছবি যাচাই 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ০৮ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একই ছবি সংযুক্ত উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের পরে বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. ইউনূসের শপথ গ্রহণে তাকে অভিনন্দন জানান মোদী। পাশাপাশি, তিনি বাংলাদেশে দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার আশাবাদ ও ব্যক্ত করেন বলে জানা যায়। এটি মূলত সেই ঘটনারই ছবি।

অর্থাৎ, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলোও উক্ত দাবির সাথে অপ্রাসঙ্গিক।

উল্লেখ্য, পূর্বেও শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে ভাষণ দেওয়ার দাবিতে একাধিক ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দাবিগুলো যাচাই করে একাধিক (, , ) ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, অপ্রাসঙ্গিক কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন ছবি যুক্ত করে নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারতের দিল্লী থেকে প্রকাশ্যে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: