সন্দ্বীপে তারাবির নামাজরত অবস্থায় হামলার শিকার ছাত্রশিবির নেতা মারা যাননি 

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে তারাবির নামাজ পড়া অবস্থায় ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে মসজিদ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. জিহাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সন্দ্বীপে তারাবির নামাজরত অবস্থায় মারধরের শিকার ছাত্রশিবির নেতা জিহাদ মারা যাননি, বরং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে, দেশিয় মূলধারার একাধিক (, ) সংবাদ মাধ্যমে আলোচিত বিষয়ে খবর প্রচার হতে দেখা যায়। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে, তারাবির নামাজ শুরুর সময় স্থানীয় জামাল নামক এক ব্যক্তির নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে জিহাদকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায় এবং বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করে। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে জিহাদকে গুরুতর জখম করেছে বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা। পরে তাকে উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিহাদ হাসপাতালে থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও প্রতিবেদনগুলোতে কোথাও তার মারা যাওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধানে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই বিষয়ে একটি পোস্ট প্রচার হতে দেখা যায়। উক্ত পোস্টে তিনি জানান, সন্দ্বীপে তারাবির নামাজরত অবস্থায় হামলার শিকার ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জিহাদকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষনিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এবং জিহাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আছেন।

এছাড়া, আলোচিত এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা উত্তর শাখা হতে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সুতরাং, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে তারাবির নামাজ পড়া অবস্থায় হামলার শিকার ইউনিয়ন ছাত্রশিবির নেতা জিহাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: