জামিনের পর শিরীন শারমিনের বক্তব্য দাবিতে ২০২০ সালের ভিডিও প্রচার 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ৭ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। মামলার এজাহার অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালীন সংঘর্ষে হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে তাকে আসামি করা হয়েছিল। তবে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেখান যে, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ড. শিরীন শারমিনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। পরবর্তীতে, গত ১২ এপ্রিল তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান। এরই প্রেক্ষিতে জামিনে কারামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর ভিডিওবার্তা দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামে খোলা একটু ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি প্রচারের পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ফেসবুকে প্রচারিত দাবি দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত দাবি দেখুন: এখানে এবং এখানে

ইউটিউবে প্রচারিত দাবি দেখুন: এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জামিনে কারামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর ভিডিওবার্তা দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। প্রকৃতপক্ষে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ২০২০ সালে তাঁর দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিওকে সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Inter-Parliamentary Union (IPU)’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২০ সালের ১০ আগস্টে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যার সঙ্গে আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে এবং এর বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, এটি সংসদ কীভাবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালীভাবে দেশ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে ঐসময়ের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও।

পাশাপাশি, একই দিনে অর্থাৎ ২০২০ সালের ১০ আগস্টে ‘Inter-Parliamentary Union’ এর ফেসবুক পেজেও আলোচিত ভিডিওটি প্রচার হতে দেখা যায়। উক্ত ভিডিও এবং ক্যাপশন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

এছাড়া, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণেও ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার এবং জামিন ঘিরে একাধিক ভুয়া তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের একটি পুরোনো ভিডিওকে সম্প্রতি জামিনে কারামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে তার দেওয়া ভিডিওবার্তা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: