কাজের মেয়েকে আটকে রেখে একমাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে সোনাদিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির গ্রেফতার শীর্ষক দাবিটি ভুয়া 

সম্প্রতি, “কাজের মেয়েকে আটকে রেখে একমাস ধরে ধর্ষণ, সোনাদিয়া উপজেলা জামাতের আমির গ্রেফতার” শিরোনাম সংবলিত একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

অনুরূপ দাবিতে থ্রেডসে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে

এছাড়া, ইউটিউবে প্রচারিত দাবি দেখুন: এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘কাজের মেয়েকে আটকে রেখে এক মাস ধরে ধর্ষণের দায়ে সোনাদিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির গ্রেফতার’ শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কোনোপ্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া, প্রচারিত ছবিটি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা বোরহান উদ্দিনের। ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর নাশকতার অভিযোগে তাকে আটক করা হয় এবং এটি সেই ঘটনারই ছবি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে, আলোচিত দাবিতে সংবলিত ছবিটি রিভার্স সার্চের মাধ্যমে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা মেইলের ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর একই ছবি ব্যবহারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপির ২৫জন এবং জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ২১ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে চৌমুহনী বাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পাশাপাশি, আলোচিত ঘটনার বিষয়ে দেশিয় একাধিক (, ) সংবাদমাধ্যমে সেসময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনায় একই তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।

সুতরাং, কাজের মেয়েকে আটকে রেখে এক মাস ধরে ধর্ষণের দায়ে সোনাদিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির গ্রেফতার দাবিতে প্রচারিত দাবিটি ভুয়া এবং ব্যবহৃত ছবিটি পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার।

তথ্যসূত্র

Share: