আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গত বছর প্রজ্ঞাপন জারি করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

উক্ত দাবির টিকটক পোস্ট দেখুন এখানে, যা দেখা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার বার।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা এখনও বাতিল করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা বাতিল বা তুলে নেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকেও এমন কোনো আদেশ দিতে দেখা যায়নি। রাষ্ট্রপতি গত ২০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠকে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন, যা ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারেও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তাকে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।
নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বা তালা খুলে ভেতরে প্রবেশও করেছেন– এরকম খবর উঠে আসছে সংবাদ মাধ্যমে। এর প্রেক্ষিতে বিবিসি বাংলা গত ২২ ফেব্রুয়ারি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। উক্ত প্রতিবেদনে আত্মগোপনে থাকা দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের বক্তব্য পাওয়া যায়। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তারা আশা করছেন সরকার শিগগিরই আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে।
এই মন্তব্য থেকেও স্পষ্ট যে, আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা এখনও আসেনি।
সুতরাং, রাষ্ট্রপতির আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে জারি করা নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়েছে শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Kaler Kantho: চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি


