শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকার ‘রিলস’ দেখার ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের

সম্প্রতি, শ্রেণিকক্ষে শুয়ে শুয়ে শিক্ষিকার রিলস দেখার দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটি প্রচারের সময় এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রেক্ষাপট বা বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ভিডিওটি বাংলাদেশের ধরে নিয়ে অনেক নেটিজেনকে এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতেও দেখা গেছে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত দাবি দেখুন: ইনকিলাব, মানবকণ্ঠ

একই দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে

একই দাবিতে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। বরং, এটি ভারতের বিহার রাজ্যের একটি স্কুলের ঘটনা।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Khoj News’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটি সম্পর্কে হিন্দি ক্যাপশনে লেখা হয়, “বাচ্চাদের সামনে খোলা বই, ম্যাডামের মাথায় চড়েছে রিলসের নেশা।” পাশাপাশি বিহার রাজ্যসংক্রান্ত হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা হয়েছে ক্যাপশনে।

পরবর্তীতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক ভাস্কর-এর ওয়েবসাইটে ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনথেকে জানা যায়, বিহারের সমস্তিপুর জেলার পটোরি ব্লকের চাহকো পঞ্চায়েতের অন্তর্গত রাষ্ট্রীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় চহকহবিবের এক টোলা সেবকের (বিহার রাজ্যে চালু শিক্ষা-সহায়ক পদ) ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে তিনি বেঞ্চে শুয়ে মাথার নিচে বই রেখে মোবাইলে সিনেমা দেখছেন, আর একই ঘরে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। স্থানীয়দের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একজন গ্রামবাসী গোপনে ভিডিওটি ধারণ করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ব্লক শিক্ষা আধিকারিক মনীশ কুমার তদন্তের নির্দেশ দেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

সুতরাং, ভারতের একটি ঘটনার ভিডিও বাংলাদেশের দাবি করে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: