শায়খ আহমাদুল্লাহকে উদ্ধৃত দিয়ে জনকণ্ঠের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার  

সম্প্রতি জনপ্রিয় ইসলামিক আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহকে উদ্ধৃত দিয়ে ‘মেয়েদের আন্ডার গার্মেন্টস ব্রা পেন্টি প্রকাশ্য শুকাতে দিয়ে পুরুষদের দেখিয়ে উত্তেজিত করা গুনা হয়’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ এর ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শায়খ আহমাদুল্লাহকে উদ্ধৃত দিয়ে দৈনিক জনকণ্ঠও এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় দৈনিক জনকণ্ঠের ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করে এই ফটোকার্ডটি তেরি করা হয়েছে। তবে শায়খ আহমাদুল্লাহ নারীদের পোশাক পুরুষদের দৃষ্টির আড়ালে শুকানো উত্তম বলে বক্তব্য দিয়েছেন।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ৩০ নভেম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে দৈনিক জনকণ্ঠের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, দৈনিক জনকণ্ঠের ওয়েবসাইট ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দৈনিক জনকণ্ঠের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় এবং তারিখের পরে সালও উল্লেখ নেই।

তবে, আলোচিত বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘কোরআন জ্যোতির্ময়’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ‘ইসলামে মহিলাদের জামা-কাপড় বাইরে শুকানোর বিধান। শায়খ আহমাদুল্লাহ’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। যেখানে তিনি বলেন, ‘মহিলাদের একেবারে কিছু পোশাক তো এমন আছে যে, পোশাকগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। সেগুলোকে পুরুষ বা পরপুরুষের দৃষ্টিতে পড়ে এমন জায়গায় নাড়া উচিত নয়। কারণ, সেগুলো দেখার পর পুরুষ সেগুলোকে নিয়ে বাজে চিন্তায় পতিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা আছে। আর এর বাইরে সাধারণ পোশাক, যেগুলো আছে, যথাসম্ভব পুরুষের দৃষ্টির আড়ালে বা সবার দৃষ্টিতে পড়বে এমন জায়গায় না নেড়ে একান্তেই সেগুলোকে বাসার বারান্দায় এমনভাবে নাড়ানো উচিত যেখানে আসলে অন্যদের দৃষ্টি সেভাবে পড়বে না। যদি পড়ে দৃষ্টিতে, তবে সেটি আসলে কোনো বড় গুনাহ হয়ে যাবে ব্যাপারটি এমন না। তবে তাকওয়ার খেলাফ হবে, সন্দেহাতীতভাবে। কারণ এমন একটা ফিতনার সংকুল সময় আমরা পার করছি, যেখানে নারীদের পোশাক-আশাক এভাবে ভেজা অবস্থায় যখন নাড়া হবে, তখন সেগুলো দেখেও বাজে চিন্তা করার স্কোপ মানুষ পাবে। আরও নানা ক্ষতিকর দিক এতে আছে, তাই এভোয়েড করাটাই উত্তম।’

সুতারাং, শায়খ আহমাদুল্লাহকে উদ্ধৃত করে দৈনিক জনকণ্ঠ এর নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি ভুয়া।

তথ্যসূত্র

Share: