ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে রণক্ষেত্র দিল্লী দাবিতে ভারতের পুরোনো ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার

বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুন দিল্লীতে ভারতের ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক উদ্যোগ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলন করে। এরই প্রেক্ষিতে দেশিয় কতিপয় গণমাধ্যমে বিক্ষোভ ও আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের একাধিক দৃশ্যের সমন্বয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে রণক্ষেত্র দিল্লী’।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট : ইনকিলাব, ভোরের কাগজ।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি গত ৬ জুন দিল্লীতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের দৃশ্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি গত ৮ মে ভারতের বিহারের পাটনায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের দৃশ্যের।
আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘TTS India’ ও এর সাংবাদিক বিক্রম বিন্দাঁজু’র ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে গত ৮ মে তারিখে প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে প্রদর্শিত দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত প্রতিটি দৃশ্যের সংযুক্তি পাওয়া যায়।

TTS India এর ভিডিওতে নানা দৃশ্যে সাংবাদিকের বলা কথার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে শুনতে পাওয়া সাংবাদিকের কথারও হুবহু মিল পাওয়া যায় এবং নিশ্চিত হওয়া যায় যে ‘TTS India’ এর ভিডিওটি মূল ভিডিও। প্রকৃতপক্ষে ‘TTS India’ এর ২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড এর উক্ত ভিডিওর নানা দৃশ্য নিয়ে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত প্রায় ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিও বানানো হয়েছে। ভিডিওর প্রেক্ষাপটের বিষয়ে ‘টিটিএস ইন্ডিয়া’ এর ইনস্টাগ্রাম পোস্টটিতে বলা হয়, ‘পাটনায় TRE ৪ পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের তাণ্ডব: তাড়া করে এমন মারধর করা হলো যে অনেকের মাথা ফেটে গেল। গ্রাউন্ড রিপোর্ট’ (স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনূদিত)
এরই সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এবিপি লাইভ’ এর ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে গত ৮ মে তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিহারের পাটনায় BPSC TRE ৪.০ আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তির দাবিতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ। পরিস্থিতি তখন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার (Teacher Recruitment Examination- TRE 4.0) জন্য প্রস্তুতি নেওয়া বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC)-এর অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিতে জড়ো হন। TRE ৪.০-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বিলম্বের কারণে বিক্ষোভকারীরা বিহার সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে একটি স্পষ্ট আপডেট দাবি করেন। ভিড় ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এবং আন্দোলন আরও জোরালো হলে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে।’ (অনূদিত)
এছাড়াও, এবিপি লাইভের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আন্দোলনটি ছাত্রনেতা দিলীপ কুমারের নেতৃত্বে হয় এবং চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, সরকার কোনো প্রয়োজন ছাড়াই TRE 3 নিয়োগ প্রক্রিয়াতে দেরি করছে। অন্যদিকে, লাখ লাখ প্রার্থী TRE 4-এর বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করে আছেন। বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে আরও দাবি জানিয়েছেন যেন শূন্যপদের সঠিক সংখ্যা সবার সামনে প্রকাশ করা হয় এবং নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন ঘোষণা করা হয়। এই আন্দোলনের আরেকটি প্রধান দাবি ছিল, শিক্ষক নিয়োগে বিহারের স্থানীয় যুবকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য ‘ডোমিসাইল নীতি’ (domicile policy) কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
পরবর্তীতে গত ৬ জুন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এর দিল্লীতে আন্দোলনের বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন দিল্লীর যন্তর মন্তরে NEET, CBSE এবং CUET পরীক্ষা সংক্রান্ত নানা বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, তরুণ পেশাজীবী এবং অভিভাবকেরা জড়ো হয়েছিলেন। আন্দোলনকারীরা শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা চেয়ে স্লোগান দেন এবং পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবি জানান। এই বিক্ষোভ আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন সিজেপি-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
অর্থাৎ, উপরোক্ত তথ্যপ্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি দিল্লীতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের আগে থেকেই অনলাইনে বিদ্যমান এবং ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে বিহারের পাটনায় ভিন্ন আন্দোলনের।
সুতরাং, গত ৬ জুন দিল্লীতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের দৃশ্য দাবিতে গত ৮ মে ভারতের বিহারের পাটনায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

