প্রায় তিন দশক ধরে বন্ধ থাকা কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হয়েছে দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার।

ফেসবুকে প্রচারিত এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই ছবি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় চালু হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। এছাড়াও উক্ত দাবিতে প্রচারিত ছবিটিও আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি ছবিকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিমানবন্দরটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১-৪২ সালে ব্রিটিশ ও মার্কিন বাহিনী সামরিক কাজে ব্যবহার করত। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এখানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল করে। পরে লোকসানের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯৯৪ সালে নতুন আশায় পুনরায় চালু করা হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে যায় বিমান চলাচল। তারপর থেকে বন্ধ আছে বিমানবন্দরটি।
তবে প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, বিমানবন্দরে থাকা ডিভিওআর, ডিএমই এবং ভিস্যাট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ সেবা নিচ্ছে। এই সেবা থেকেই প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে; যা থেকে সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাচ্ছে।
পরবর্তীতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি কিনা সেটি যাচাইয়ে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Hive Detect-এ ছবিটি পরীক্ষা করলে দেখা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
সুতরাং, কুমিল্লা বিমানবন্দর পুনরায় চালু হওয়ার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই জেনারেটেড।
তথ্যসূত্র
- Somoy News Website: বিমান ওঠানামা ছাড়াই কোটি টাকা আয় কুমিল্লা বিমানবন্দরে!
- HIve Detect
- Rumor Scanner’s Analysis


