সম্প্রতি, বাংলাদেশে একজন মসজিদের ইমাম অমুসলিম নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন দাবিতে থাইল্যান্ড থেকে পরিচালিত একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। ভারত থেকে পরিচালিত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে একই ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয় যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের নির্যাতন করা হচ্ছে।
উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
এছাড়া, একই ভিডিও সংযুক্ত করে পোল্যান্ড ও ইসরায়েলে থেকে পরিচালিত কিছু এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত পোস্টে দাবি করা হয়, “যৌন প্রলোভন সৃষ্টি করতে পারে- এই আশঙ্কায় বাংলাদেশে মেয়েদের মাথা ন্যাড়া করতে বাধ্য করা হয়েছে।”
উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
অন্যদিকে, জামায়াতের নেতা বেদে সম্প্রদায়ের নারীদের চুল কেটে দিচ্ছে কিংবা বিএনপির সভাপতি নারী নির্যাতন করছে দাবিতে একই ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটির সঙ্গে প্রচারিত দাবিগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, গত মার্চ মাসে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় চুরির অভিযোগে তিনজন নারীকে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনাকে উক্ত এসব দাবিতে প্রচার করা হয়। এছাড়া, উক্ত ঘটনায় মারধরের শিকার তিনজন নারীর কেউই অমুসলিম ছিলেন না।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গত ০২ মার্চ একাধিক গণমাধ্যমে (১, ২) প্রকাশিত আলোচিত ভিডিওটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যায়।

এসব ভিডিও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ০২ মার্চ দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগ তুলে তিন নারীকে বেঁধে নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। সংযুক্ত ভিডিওটি উক্ত ঘটনার দৃশ্য।
উল্লিখিত ঘটনার বিষয়ে প্রকাশিত কিছু সংবাদ প্রতিবেদন (১, ২) থেকে নির্যাতনের শিকার তিন নারীর পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়। তারা হলেন- সুমাইয়া আক্তার, ইতি আক্তার ও শারমিন আক্তার।
অর্থাৎ, নির্যাতনের শিকার নারীর কেউ অমুসলিম নন৷
পরবর্তীতে, এ বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমের (১, ২) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে নারীর চুল কাটতে দেখা যায় তার নাম সেলিম মিয়া। রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ডহরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ার বাড়িতে স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগে তিন নারীকে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় সেলিম মিয়াসহ তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন মিলে তিন নারীর চুল কেটে দিয়ে তাদের মারধরও করেন।
উক্ত এসব প্রতিবেদনে সেলিম মিয়ার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত থাকার তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, চুরির অভিযোগে নির্যাতনের ভিডিওকে নারীর ওপর জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের সাম্প্রদায়িক নির্যাতন দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- রূপগঞ্জের আলো – রূপগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে ৩ নারীকে বেধে চুল কেটে নির্যাতন
- একুশে টিভি – রূপগঞ্জে চুরির অপবাদে ৩ নারীকে নির্যাতন, মাথার চুল কর্তন
- Maasranga News – Facebook Post
- একুশে টিভি – রূপগঞ্জে চুরির অভিযোগে ৩ নারীকে বেঁধে নির্যাতন, কেটে দেওয়া হয়েছে মাথার চুল
- প্রথম আলো – রূপগঞ্জে চুরির অভিযোগে ৩ নারীর চুল কেটে গাছে বেঁধে মারধর
- The Daily Star – নারায়ণগঞ্জে চুরির অভিযোগ তুলে ৩ নারীর চুল কেটে গাছে বেঁধে মারধর


