কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোজাহের ইসলামের গ্রেফতারের ভুয়া দাবি প্রচার

সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেলে ৪ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে আর১৫ মডেলের একটি বাইক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা এবং পরে তা প্রদান নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোজাহের ইসলামকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়ানো হয়েছে যে, তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। দাবিটির সমর্থনে একটি ছবি এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির আদলে তৈরি একটি ফটোকার্ডও প্রচার করা হচ্ছে।

উক্ত দাবিতে যমুনা টিভির ফটোকার্ড সংবলিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

গ্রেফতারের দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ছবিসহ ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোজাহের ইসলাম গ্রেফতার হননি। প্রকৃতপক্ষে, যমুনা টিভির নামে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় ভুয়া ছবি বানিয়ে এ দাবি প্রচার করা হচ্ছে।

যমুনা টিভির ফটোকার্ড যাচাই

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এতে যমুনা টিভির লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। একইভাবে, যমুনা টিভির ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও এ দাবির পক্ষে কোনো সংবাদ মেলেনি।এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডটির ডিজাইন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্ট যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের ফন্টের সঙ্গে মিলছে না।

ফটোকার্ডে যুক্ত ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে এআই-জনিত একাধিক অসংগতি শনাক্ত করা যায়। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে রিউমর স্ক্যানার এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ ডিটেক্ট দিয়ে ছবিটি পরীক্ষা করে। টুলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

গ্রেফতারের দাবিতে প্রচারিত ছবি যাচাই

গ্রেফতারের দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলোতেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছবিটি পর্যবেক্ষণে এর বিভিন্ন উপাদানে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, যা সাধারণত এআই-তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়।

ছবিটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কি না, তা নিশ্চিত হতে রিউমর স্ক্যানার গুগলের শনাক্তকরণ প্রযুক্তি SynthID দিয়ে বিশ্লেষণ করে। এতে দেখা যায়, ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি বা সম্পাদিত হয়ে থাকতে পারে।

অর্থাৎ, এই ছবিটিও এআই ব্যবহার করে তৈরি।

পাশাপাশি, আলোচিত দাবির সমর্থনে মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মোজাহের ইসলামের মতো পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেফতার হলে তা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার কথা।

এ বিষয়ে জানতে রিউমর স্ক্যানার মোজাহের ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি গ্রেফতারের দাবিটি ভুয়া বলে জানান।

সুতরাং, মোজাহের ইসলামের গ্রেফতারের দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি এবং একই দাবিতে যমুনা টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

তথ্যসূত্র

Share: