চট্টগ্রামে বন্যার দৃশ্য দাবিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের পুরোনো ভিডিও প্রচার 

সম্প্রতি, চট্টগ্রাম বিভাগে চলমান বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্য দাবিতে একাধিক ফুটেজ সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওগুলোর সাথে চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, ২০২১ সালে তুরস্কের রাইজ শহর এবং ২০২২ সালে পাকিস্তানের সোয়াত ভ্যালি প্লাবিত হওয়ার ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। 

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজগুলো পৃথকভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।

ফুটেজ যাচাই ১

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে তুরস্ক ভিত্তিক গণমাধ্যম HABERTON এর ওয়েবসাইটে ২০২১ সালের ২২ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত ভিডিও ফুটেজটির সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ২১-২২ জুলাইয়ে তুরস্কের রাইজ ও আর্টভিন প্রদেশের একাধিক শহরে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়। ভিডিওটিতে তারই একটি দৃশ্য দেখা যায়।

পরবর্তীতে, এ বিষয়ে তুরস্কের অন্যান্য একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন (, ) থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

ফুটেজ যাচাই ২

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে Business Insider এর ওয়েবসাইটে ২০২২ সালে ২৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত ভিডিও ফুটেজটির সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এটি ২০২২ সালের আগস্টে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে বন্যার ফলে সোয়াত ভ্যালি প্লাবিত হওয়ার দৃশ্য।

পরবর্তীতে, পাকিস্তান সিনেটের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারপার্সন ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির শীর্ষ নেতা শেরি রেহমানের এক্স অ্যাকাউন্টে ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট প্রকাশিত একটি পোস্ট থেকে জানা যায়, এটি বন্যায় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মাদিয়ান ব্রিজ প্লাবিত হওয়ার দৃশ্য।

অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিও ফুটেজগুলোর সাথে চট্টগ্রাম বিভাগের সাম্প্রতিক বন্যার কোনো সম্পর্ক নেই।

সুতরাং, চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির দৃশ্য দাবিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের বন্যার পুরোনো ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: