সিভাসু শিক্ষার্থী উপমা দত্তের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডেইলি ক্যাম্পাসের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

গত ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপমা দত্ত নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ছবি সংযুক্ত করে ‘চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপমা দত্ত নামে আবাসিক হলের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যার পর ফ্যানের সাথে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে শিবির সন্ত্রাসীরা’ শিরোনামে ডেইলি ক্যাম্পাসের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত শিরোনামে ডেইলি ক্যাম্পাস কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। বরং, ডেইলি ক্যাম্পাসের ভিন্ন একটি ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে ডেইলি ক্যাম্পাসের লোগো ও এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ পাওয়া যায়। এরই সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, এবং ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে গত ০১ ফেব্রুয়ারি কিংবা অন্য কোনো তারিখে প্রকাশিত এমন কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি।

তবে, ডেইলি ক্যাম্পাসের ফেসবুক পেজে গত ০১ ফেব্রুয়ারি ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উপমার লাশ, হিসাব মিলছে না করো’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতীত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। ডেইলি ক্যাম্পাসের মূল ফটোকার্ডটিতে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উপমার লাশ, হিসাব মিলছে না করো’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপমা দত্ত নামে আবাসিক হলের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যার পর ফ্যানের সাথে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে শিবির সন্ত্রাসীরা’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, ডেইলি ক্যাম্পাসের নামে এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে দেওয়া বিস্তারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ আবাসিক হল থেকে উপমা দত্ত নামে ডিভিএম বিভাগের ২৬তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি মাগুরার সর্বসাংদা গ্রামে। ঘটনার দিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্লাস করে কক্ষে ফেরার পর থেকে তার কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না; সন্ধ্যায় সহপাঠীরা জানালা দিয়ে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি; পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি ক্যাম্পাসের এই প্রতিবেদন বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে উপমা দত্তকে ধর্ষণ কিংবা এতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, ঘটনাটি সিভাসুর হলেও প্রচারিত ফটোকার্ডের শিরোনামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করা হয়েছে।

সুতরাং, ‘চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপমা দত্ত নামে আবাসিক হলের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যার পর ফ্যানের সাথে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে শিবির সন্ত্রাসীরা’ শিরোনামে ডেইলি ক্যাম্পাসের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: