সম্প্রতি, ‘এভাবেই বরিশাল থানায় বাবার সামনে ধর্ষণের বর্ণনা দিচ্ছিলেন মেয়ে। প্রকাশ্য বাবার সামনে মেয়েকে ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। সরকারের নিরবতায় কোনভাবেই সারাদেশে থামছেই না ধর্ষণ!!!’ শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
একই ভিডিও দেখুন ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্সে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি বরিশালের নয় এবং এটির সাথে ধর্ষণেরও সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, এটি গত ৩০ এপ্রিল কুমিল্লায় একটি এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধে এক হিন্দু দম্পতিকে মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগ সংক্রান্ত ঘটনার ভিডিও।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Dristikon’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১৫ মে প্রকাশিত একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, কিস্তির টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করেন এনজিও কর্মী।

কুমিল্লার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কুমিল্লা প্রতিদিন’ এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি কুমিল্লার। স্থানীয় এনজিও পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
গণমাধ্যমটির এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল রাতে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির চার মাঠকর্মী মিরাজ হোসেন, রাহিদ, ইতি দেবনাথ ও রোকসানা আক্তার গোয়ালপট্টি এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় যান। সে সময় দম্পতি আগামী মাস থেকে বকেয়া কিস্তি পরিশোধের আশ্বাস দিলেও অভিযুক্তরা তা না মেনে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ইতি দেবনাথ ও রোকসানা আক্তার রিনা রানী সাহাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শ্যামল চন্দ্র সরকারকেও মারধর করা হয়। এছাড়া ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা দম্পতির পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন এবং রিনা রানী সাহার শাখা ভেঙে দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন। ঘটনার রাতেই কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অর্থাৎ, ভিডিওটি বরিশালের নয়, বরং কুমিল্লার ভিন্ন ঘটনার।
সুতরাং, কুমিল্লার ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে বাবার সামনে বরিশালে থানায় গিয়ে ধর্ষণের বর্ণনা দিলেন মেয়ে দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Dristikon: Facebook Video


