ডিএমপি’র ডিবি প্রধান হারুনের সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা ভিসা বাতিলের গুজব

সম্প্রতি ‘ডিবি হারুন ও তার পরিবারের সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা ভিসা বাতিল করেছে সিঙ্গাপুর দূতাবাস’ শীর্ষক দাবিতে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিঙ্গাপুর দূতাবাস কর্তৃক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ও তার পরিবারের সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা ভিসা বাতিলের তথ্যটি সঠিক নয় বরং কোনো ধরনের তথ্যসূত্র ছাড়াই উক্ত দাবিটি ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এমন কোনো তথ্য আছে কি না তা নিয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার টিম। তবে অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয়টির ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ বিষয়ক তথ্য অনুসন্ধানে (ডিএমপি)’র ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ ও তার পরিবারের সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা ভিসা বাতিল সংক্রান্ত কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ওয়েবসাইটটির বাংলাদেশিদের ভিসা সংক্রান্ত নির্দেশনা ঘেটে দেখা যায়, বাংলাদেশের কূটনীতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের সিঙ্গাপুরে যেতে ভিসার প্রয়োজন নেই।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার টিম।

অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক মানবজমিনে গত ১২ জুন ‘সপরিবারে সিঙ্গাপুর গেলেন ডিবির হারুন‘ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, গত ৮ জুন বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সিঙ্গাপুর গেছেন পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে তোলা ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত আরও প্রতিবেদন পড়ুন সপরিবারে সিঙ্গাপুর গেলেন ডিবির হারুন (সাম্প্রতিক দেশকাল)।

পরবর্তীতে দাবিটির বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হারুন অর রশিদের সিঙ্গাপুরে অবস্থান প্রসঙ্গে একাধিক ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।

যেমন, এরশাদুল আলম নামে জনৈক ব্যক্তি হারুন অর রশিদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করে গত ১০ জুন হারুন অর রশিদ সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে ‘ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বিপিএম বার, পিপিএম বার, মহোদয় ও তারঁ সহধর্মিণী উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর অবস্থান করছেন।‘ শীর্ষক শিরোনামে একটি পোস্ট দেন।

এছাড়া রাহিদ রনি এন্টারটেইনমেন্ট নামের একটি ফেসবুক পেজেও একইদিনে হারুন অর রশিদের সিঙ্গাপুরে অবস্থানের বিষয়ে আরো কিছু ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, গত পহেলা জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশিদকে চিকিৎসার গ্রহণের উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর গমনের অনুমতি দিয়ে ১৩ দিনের বহি: বাংলাদেশ ছুটি মঞ্জুরের প্রজ্ঞাপন জারি করে।

ওই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হারুন অর রশিদের বিদেশ সফর নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি প্রচার হতে থাকে। এরপরই হারুন দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন শীর্ষক একটি দাবি(আর্কাইভ) ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এই দাবির প্রেক্ষিতে হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা শুধু আমাকে নিয়ে নয়, গত কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে দেশের বাইরে থেকেও কিছু লোক সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে ভিডিও করছে। তারা বলছে, অনেক সরকারি কর্মকর্তা দেশের বাইরে যাওয়ার পর ফিরবেন না। এটা সম্পূর্ণ গুজব।’

মূলত, গত পহেলা জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা ঢাকা মেট্রোপলিটনপুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশিদকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার অনুমতি দিয়ে ১৩ দিনের ছুটি প্রদানপূর্বক প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ও তার পরিবারের সিঙ্গাপুরের ভিসা বাতিলের দাবিতে একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, হারুন অর রশিদ বা তার পরিবারের সিঙ্গাপুরের ভিসা বাতিলের দাবিটি ভিত্তিহীন এবং তিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুরেই অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশিদ ছাড়াও আরও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ভিসা বাতিলের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একাধিক গুজব শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম। রিউমর স্ক্যানারে প্রকাশিত এমন কিছু প্রতিবেদন দেখুন

সুতরাং, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ও তার পরিবারের সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা ভিসা বাতিলের দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: