ফেইক আইডি, পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবিতে ডিবিসি নিউজের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি, ‘আসছে ফেক আইডি পেজ সহ ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা! সারাদেশে চলবে অভিযান’ শিরোনামে ডিবিসি নিউজের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ফটোকার্ড দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত শিরোনামে ডিবিসি নিউজ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিবিসির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে ডিবিসির লোগো দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি ফটোকার্ডটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ পাওয়া যায়।
প্রাপ্ত তথ্যগুলোর সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো ফটোকার্ড প্রচারিত হতে দেখা যায়নি। এছাড়াও সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা অন্যকোনো গণমাধ্যমে উল্লিখিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, ডিবিসির ফেসবুক পেজে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘পুরো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে।

তবে, উভয় ফটোকার্ডে শিরোনামের পার্থক্য রয়েছে। ডিবিসির ফটোকার্ডে ‘পুরো রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ’ শিরোনাম থাকলেও আলোচিত ফটোকার্ডে ‘আসছে ফেক আইডি পেজ সহ ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা! সারাদেশে চলবে অভিযান’ শীর্ষক বাক্য লেখা রয়েছে।
এছাড়াও ডিবিসির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের পার্থক্যও স্পষ্ট। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে উক্ত ফটোকার্ডটির শিরোনাম পরিবর্তন করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, ফেক আইডি, পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আসছে দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা এবং উক্ত শিরোনামে ডিবিসি নিউজের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

