সাম্প্রদায়িক কারণে মারা যাননি বরিশালের হিন্দু কিশোরী জৈতিমনি 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন কিশোরীর একটি ছবি প্রচার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘আরেকটি ঘটনা—বাংলাদেশের বরিশালে ১৫ বছর বয়সী হিন্দু কিশোরী জয়িতা মণিকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের আগে আর কত সংখ্যালঘু শিশুকে প্রাণ দিতে হবে? মাত্র ২ দিনের মধ্যে ৩ জন মেধাবী হিন্দু শিক্ষার্থীর মরদেহ পাওয়া গেছে।’ এছাড়াও, ক্যাপশনে ‘#SaveBangladeshiHindus’ হ্যাশট্যাগও সংযুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক কারণে বরিশালে মারা গেছেন ১৫ বছর বয়সী হিন্দু কিশোরী ‘জয়িতা মণি’।

এরূপ দাবিতে এক্সে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রদায়িক কারণে বরিশালের হিন্দু কিশোরী জৈতিমনির মারা যাওয়ার দাবি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে পরিবারের দাবি অনুসারে, মোবাইল ফোন দেখতে নিষেধ করায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘যুগান্তর’ এর ওয়েবসাইটে ‘মোবাইল রেখে পড়তে বলায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, দাবি পরিবারের’ শিরোনামে গত ২৮ জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টে সংযুক্ত কিশোরীর ছবির সংযুক্তিও পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বরিশালের মুলাদীতে জৈতিমনি (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ গত ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১০টার দিকে মুলাদী পৌরসদরের বেইলিব্রিজ (নগর) এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘মোবাইল রেখে পড়তে বলায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। জৈতিমনির মা ঝুমা সরকার জানান, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তার মেয়ে প্রাইভেট পড়ে কিছুটা দেরি করে বাসায় ফেরে। রাত ৯টার দিকে সে পড়তে না বসে মোবাইল দেখা শুরু করে। কিছুদিন পরেই এসএসসি পরীক্ষা তাই তাকে মোবাইল রেখে পড়তে বসার জন্য বলা হয়। ওই সময় জৈতিমনি রাগ করে মোবাইল দিয়ে তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে খাবারের জন্য ডাকতে গিয়ে সাড়া না পাওয়ায় দরজার ফাঁক দিয়ে মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখে ডাকচিৎকার দেন। পরে রাত ১০টার দিকে মুলাদী থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করেন।’

এছাড়াও, প্রতিবেদনে ঝুমা সরকারের বরাতে আরও বলা হয়, জৈতিমনি তার বাবা রিপন রায়কে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। বাবার মৃত্যুর পরে মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। বেশ কিছুদিন ধরে সে তার বাবার কাছে চলে যাবে বলছিল।

পাশাপাশি, প্রতিবেদনে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরীর বরাতে বলা হয়, ‘মায়ের সঙ্গে অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে একইরকম তথ্য আরো একাধিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়। কোথাও এতে সাম্প্রদায়িক কোনো সহিংসতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টে উক্ত কিশোরীর নাম ‘জয়িতা মণি’ উল্লেখ করা হলেও গণমাধ্যমে তার নাম ‘জৈতিমনি’ উল্লেখ করা হয়েছে।

সুতরাং, সাম্প্রদায়িক কারণে বরিশালের হিন্দু কিশোরী জৈতিমনি মারা গেছেন শীর্ষক দাবি বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: