অবসরপ্রাপ্ত একজন সেনা কর্মকর্তার কাছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুঃখ প্রকাশ করেছেন, এমন একটি সংবাদ গতকাল (০৯ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিছু গণমাধ্যমের সংবাদে দাবি করা হয়, সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তার নাম মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমি। আবার কিছু গণমাধ্যমে তার নাম মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমি দাবি করা হয়। এও দাবি করা হয় যে, তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন।

এমন দাবিতে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখুন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, চ্যানেল২৪, ডিবিসি নিউজ, আরটিভি, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ঠিকানা নিউজ, বৈশাখী টিভি।
একই দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে।
একই দাবির ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, তারেক রহমান যে সাবেক সেনা কর্মকর্তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তার নাম সাদিক হাসান রুমি নয় এবং তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমি নামের সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা ছিলেন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে গত ০৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত তারেক রহমানের বক্তব্যের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওতে তারেক রহমানকে বলতে শোনা যায়, “স্ক্রিনে এখানে আমি একজনকে দেখতে চাচ্ছি। এটা একান্ত একটু পার্সোনাল ব্যাপার, তারপরেও আমি, সবাই আছেন, একান্ত পার্সোনাল ব্যাপার, তারপরে আমি একটু এখানে উল্লেখ করতে চাচ্ছি। আমাদের সামনে এখানে আম্মার (খালেদা জিয়া) সময় ছিলেন উনি ডিজি এসএসএফ ছিলেন, রুমি সাহেব ছিলেন। রুমি সাহেব উপস্থিত আছেন?’ তখন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের সারি থেকে জবাব আসে, ‘জি আছি।’”
তারেক রহমান বলেন, ‘রুমি সাহেব আপনার নিশ্চয় মনে আছে যে একটা মিছিল হয়েছিল একবার, সেই পুরান ঢাকা থেকে আমিন বাজারে এবং পুরা মিছিলটা আমি হেঁটে এসেছিলাম, আম্মাও (খালেদা জিয়া) ছিলেন সেই মিছিলে। তো সেই মিছিলে অনেক ভিড় হট্টগোল। আপনি আমাকে একটা কোনও কিছু বলেছিলেন। আই অ্যাম ভেরি সরি, আমি সেদিন আপনার সঙ্গে একটু রূঢ় ব্যবহার করেছিলাম। সবকিছু মিলে আই অ্যাম ভেরি সরি ফর দ্যাট। আমি অনেক দিন চেষ্টা করেছি আপনাকে রিচ করার জন্য। আই রিকুয়েস্ট মাই অ্যাপোলজি। আমি সুযোগ পাইনি। আজকে সুযোগ পেয়েছি। আই অ্যাম রিয়েলি সরি ফর দ্যাট।’
অর্থাৎ, তারেক রহমানের বক্তব্যেই স্পষ্ট যে, উক্ত ব্যক্তি এসএসএফের (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন এবং তিনি খালেদা জিয়ার শাসনামলে এই দায়িত্বে ছিলেন।
অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের ওয়েবসাইটে ২০০৯ সালের ১৪ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইতিমধ্যে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকা মেজর জেনারেল ফাতেমী আহমেদ রুমিকে সে সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার জোরপূর্বক অবসর প্রদান করে। তিনি পূর্ববর্তী বিএনপি-নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সময় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক ছিলেন।
বিডিনিউজ২৪ এর সে বছরের ০৩ ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ পাওয়া যায় যে জনাব রুমিকে সে সময় বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এদিকে, অনুসন্ধানে দেখা যায়, রুমি নামে ভিন্ন আরেকজন ব্যক্তি প্রায় একই সময়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন। বিডিনিউজ২৪ এর ২০১২ সালের এক প্রতিবেদনে সাদিক হাসান রুমি নামের উক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, তিনি ২০০২ সালের মে মাস থেকে ২০০৭ সালের মে মাস পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আনসারের ডিজি পদে নিয়োগ পান।
দুই ব্যক্তির নামই রুমি হওয়ায় গণমাধ্যমও যে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছে তা স্পষ্ট জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনেই। পত্রিকাটি তাদের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ৯ ডিসেম্বর রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে। প্রতিবেদনে উক্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার নাম প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমি বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে সংশোধনী দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, ওই কর্মকর্তার প্রকৃত পরিচয় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমি বলে উল্লেখ করা হয়।
আবার, চ্যানেল২৪ এর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে সাদিক হাসান রুমি এবং সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমি দুই নামই ব্যবহার করা হয়েছে।

সুতরাং, তারেক রহমান কর্তৃক এসএসএফের সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ঘটনাকে ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- The Daily Star: Key changes in top command of army


