ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক জগন্নাথ রথে অগ্নিকাণ্ডের দাবিতে এআই ছবি প্রচার 

সম্প্রতি, ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক জগন্নাথ রথ আগুনে পুড়ে গিয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক জগন্নাথ রথ আগুনে পুড়ে যাওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭১ সালে রথটিতে পাকিস্তানিদের আগুন দেওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্যবহৃত এআই জেনারেটেড ছবিটিকে বাস্তব ও সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে একই দাবিতে ও একই ছবি সংবলিত রাম সৈনিক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ৬ জানুয়ারি প্রচারিত একটি ফটোকার্ড পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটি Hindu News নামের একটি গণমাধ্যমের ফটোকার্ড।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে গত ৬ জানুয়ারি ‘Hindu News’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডের সন্ধান পাওয়া যায়। মূলত এই পোস্টটির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উক্ত দাবিটি ছড়িয়ে পড়ে। 

ফটোকার্ড পোস্টটির মন্তব্যের ঘর থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় রাজাকাররা ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথে আগুন দেয়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। যাতে রথ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার আলোচিত ওই ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ছবিটির বামপাশে নিচে এটি যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে সেই ডিসক্লেইমারও দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু ফটোকার্ডটিতে এ তথ্য উল্লেখ না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

পরবর্তী আলোচিত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে উইকিমিডিয়া কমন্সের ওয়েবসাইটে ধামরাই রথের একটি ছবির সন্ধান পাওয়া যায়। ছবিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রথের ‍উক্ত ছবিটির সাথে আলোচিত ছবির পারিপার্শ্বিক জিনিসের হুবহু মিল রয়েছে। রথের ডানপাশে আইএফআইসি ব্যাংক এবং বামপাশে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের একটি বিলবোর্ড দেখতে পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, উক্ত ছবিটি ব্যবহার করেই এআই প্রযুক্তির সহায়তায় আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়াও অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে সাম্প্রতিক সময়ে ধামরাইয়ের রথে অগ্নিকাণ্ডের কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথে সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা এবং একই দাবিতে ব্যবহৃত ছবিটি এআই-তৈরি।

তথ্যসূত্র

Share: