দিগন্ত টিভির নামে সক্রিয় একাধিক ভুয়া পেজ, সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ

চলতি বছরের মার্চে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ভারতে গ্রেফতার হন। এর প্রেক্ষিতে সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাসুদ ও ইনকিলাব মঞ্চের নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমার একসাথে তোলা এআই ছবিকে বাস্তব দাবিতে প্রচার হয়। বন্ধ থাকা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘দিগন্ত’র নাম ও লোগো ব্যবহার করে চালু থাকা একটি ফেসবুক পেজ থেকে একই ছবি প্রচার করা হয়। দুই লক্ষ ২০ হাজারের অধিক ফলোয়ার সমৃদ্ধ পেজটির সেই পোস্টে চার শতাধিক কমেন্ট এসেছে। একটি কমেন্ট এমন, “দিগন্ত টেলিভিশন বাংলাদেশের তৌহিদী জনতার একটা আবেগের জায়গা এই মিডিয়ার উপর সাধারণ মানুষের অনেক আস্থা বিগত দিনের ছিল এখনো আছে ভবিষ্যতে আরো জোরালোভাবে এর প্রচার প্রসার বাড়বে বলে আমি আশা ব্যক্ত করছি। তবে সাবধান কোনভাবে যেন তৌহিদী জনতার সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলা করা না হয় এই পোস্টটি যত দ্রুত সম্ভব সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অপসারণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি কারণ এটি একটি এআই রিলেটেড ছবি ধন্যবাদ।” এমন আরো বেশকিছু কমেন্ট লক্ষ্য করা গেছে যেখানে এই পেজকে দিগন্ত’র আসল পেজ ধরে নিয়ে মানুষকে মন্তব্য করতে দেখা যায়। কিন্তু অনুসন্ধান বলছে, এটি দিগন্ত টিভির কোনো আসল পেজ নয়। চ্যানেলটির মালিকানায় থাকা দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের সাথে এই পেজের কোনো সম্পর্কই নেই৷

২০০৭ সালে দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের উদ্যোগে চালু করা হয়েছিল দিগন্ত টিভি৷ ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষ, গুজব ছড়ানো ও দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার অভিযোগ এনে চ্যানেলটির সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। সে সময় চ্যানেলটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছিল। এরপর গত সাড়ে ১৩ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সম্প্রচারে আসতে পারেনি গণমাধ্যমটি৷ যদিও ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি প্রচার হতে শুরু করে, দিগন্ত টিভি আগামী ১৮ মে সম্প্রচারে ফিরছে৷ বিশেষ করে সম্প্রতি অনলাইন সংবাদমাধ্যম এশিয়া পোস্টের উদ্বোধনের পর গণমাধ্যমটির এ সংক্রান্ত শুভেচ্ছা কার্ড নকল করে ‘দিগন্ত টিভি’ নামের একটি পেজের সমজাতীয় প্রচারণার কারণে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

অনেক নেটিজেন বিষয়টি বিশ্বাস করে নিজেদের ব্যক্তিগত প্রোফাইলেও (, ) দিগন্তকে শুভকামনা জানিয়ে পোস্ট করতে শুরু করেন৷ এই বিশ্বাসের বড় কারণ দিগন্ত টিভি নামের পেজটির ফলোয়ারের পরিমাণ। দেড় লক্ষাধিক ফলোয়ারের পেজটি দিগন্তর লোগো ব্যবহার করে দিনের পর দিন ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচার করে আসছে। এই পেজের এসব কনটেন্ট দেখে ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা গেছে গণমাধ্যমটি চালু থাকার সময়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের। দিগন্তর সাবেক প্রডিউসার ওয়াহিদ ফারুকী এক ফেসবুক পোস্টে বলছিলেন, “দিগন্ত টিভি নামে ভূয়া পেজ খুলে সমানে বাণিজ্য করে যাচ্ছে কোন এক বাটপার! সেই পেজের নাকি উদ্বোধন! আর বলদগুলো বাছবিচার না করেই সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ করে লাইক শেয়ারের বন্যা বয়ে দিচ্ছে!”

কিওয়ার্ড সার্চ করে এমন আরো অন্তত তিনটি ফেসবুক পেজ সক্রিয় অবস্থায় পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার, যেগুলোতেও দিগন্ত টিভির নাম-লোগো ব্যবহার করে ক্রমাগত কনটেন্ট ছাড়া হচ্ছে, যা দেখে যে কেউ ধরে নেবে পেজগুলো দিগন্ত টিভির আসল পেজ।

গত ০৯ মে দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশন লিমিটেডের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হচ্ছে, “দিগন্ত টেলিভিশনের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক ভূয়া ও প্রতারণামূলক পেজ খোলা হয়েছে, যা দিগন্ত টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্পূর্ণ অননুমোদিত এবং অবৈধ।”

ভুয়া পেজগুলো থেকে প্রচারিত যেকোনো নিউজ, ফটোকার্ড, ভিডিও, লাইভ বা অন্যান্য কনটেন্টের সাথে দিগন্ত টেলিভিশনের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে পোস্টে বলা হয়, “অনুমতি ছাড়া প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো, ব্র্যান্ড পরিচিতি ও কনটেন্ট ব্যবহার করা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আইন, কপিরাইট আইন এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের আওতায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

পোস্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দিগন্ত টেলিভিশনের নামে এই মুহূর্তে কোনো অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম নেই। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে গণমাধ্যমটির মূল যে ফেসবুক পেজটির খোঁজ পাওয়া গেছে সেটি ২০২৪ সালের পর থেকে সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

মূল ধারার গণমাধ্যম স্টার নিউজের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগামী ৬ মাসের মধ্যে দিগন্ত টিভি পুনঃসম্প্রচারে আসছে, এই লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শিব্বির আহমেদ।

Share: