কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে জাতীয় বেয়াদব বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান শীর্ষক একটি দাবি প্রচার করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে। এ সংক্রান্ত একটি পোস্টেই পাঁচ হাজারের অধিক রিয়েকশন এবং প্রায় ৭০০ বার শেয়ার হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহকে ডা. শফিকুর রহমান ‘জাতীয় বেয়াদব’ বলেছেন শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে,
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত পোস্টের কমেন্ট সেকশনে একটি সংবাদের লিংক পাওয়া যায়। এতে দাবি করা হয়, ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় নজিরবিহীন হট্টগোল ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ ডা. শফিকুর রহমানের কোনো একটি মন্তব্যের জোরালো প্রতিবাদ করলে ড. শফিক ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন:
“তোমাদের মতো ছেলেদের কারণেই আজ শিষ্টাচার বিলুপ্ত হতে চলেছে। তুমি যেভাবে কথা বলছো, তাতে তোমাকে ‘জাতীয় বেয়াদব’ বললে ভুল হবে না।”
দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে রিউমর স্ক্যানার জানতে পারে, হাসনাত আবদুল্লাহ সেদিন ঢাকাতেই ছিলেন না৷ যুগান্তরের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সেদিন রাতেই কুমিল্লার দেবিদ্বারে এসে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পরদিন সকাল থেকে তিনি উপজেলার ১১টি শহীদ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন।
সেদিনের একটি ভিডিওতে হাসনাতকে বলতে দেখা যায়, তিনি পরদিন অর্থাৎ ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকায় ফিরবেন।
অর্থাৎ, ১৮ ফেব্রুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহ ঢাকাতেই ছিলেন না।
এছাড়া, কিওয়ার্ড সার্চ করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোনো আলোচনা সভা হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি৷ সেদিন ফজরের নামাজের পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার কর্মসূচিতে নামেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তিনি।
সুতরাং, হাসনাত আবদুল্লাহকে ডা. শফিকুর রহমান ‘জাতীয় বেয়াদব’ বলেছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।


