পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে ড. ইউনূসের পদত্যাগের ভুয়া দাবি প্রচার  

সম্প্রতি, “আলহামদুলিল্লাহ জালিম ইউনুস পদ ত্যাগ করছে ১০/১২/২০২৫” শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)

উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অবধি ভিডিওটি প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজারবার দেখা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করেননি। প্রকৃতপক্ষে, ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার কয়েকটি পুরোনো ভিডিও যুক্ত করে আলোচিত দাবির ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

ভিডিও যাচাই ১

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম দেশ টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ২৩ মে ‘ড. ইউনূসের পদত্যাগের বিষয়ে যা জানালেন রিজওয়ানা হাসান’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফুটেজের মিল রয়েছে।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে জনকণ্ঠের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ২৩ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ড. ইউনূসের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় রিজওয়ানা হাসান বলেন, “এখন কিছু কিছু গুরু দায়িত্ব আছে, সেগুলো পালনের সাথেও তো মাসের একটা সম্পর্ক থাকতে পারে। যদি কোনো কিছু বলার থাকে, আমি নির্বাচনের প্রশ্নেও বলেছি, দায়িত্ব পালনের প্রশ্নেও বলেছি—ওটা আপনারা উনার (প্রধান উপদেষ্টার) কাছ থেকেই শুনবেন।”

ফুটেজ যাচাই ২

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম এনটিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ২৪ মে ‘ড. মুহাম্মদ ইউনুসের পদত্যাগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন নাহিদ’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফুটেজের মিল রয়েছে।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ২৪ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার বাসভবন ও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠকের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের তার পদত্যাগ করতে চাওয়ার দুই কারণ জানিয়ে বলেন, সেই নতুন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি থেকে কোনো কোনো পক্ষ সরে আসছে বলে ড. ইউনূসের মনে হচ্ছে এবং উনাকে চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন দাবি আদায়ের চেষ্টা চলছে। এরপর ওভাবে উনার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয় এবং সংস্কার কিংবা পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। সেই জায়গাতে উনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

ফুটেজ যাচাই ৩

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে এটিএন বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ‘অন্তবর্তীকালীন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর ১১ মিনিট অংশের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফুটেজের মিল রয়েছে।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে ডেইলি স্টার বাংলার ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন ১৬ জন।

অর্থাৎ, ভিডিওটি ড. ইউনূসের পদত্যাগের নয়।

এছাড়াও, উক্ত ভিডিওতে বেশ কিছু অপ্রাসঙ্গিক ছবি ও ফুটেজ যুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ১০ মাসের মাথায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠে। তবে পরবর্তীতে তিনি পদত্যাগ করেননি

সুতরাং, ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিও যুক্ত করে ড. ইউনূস পদত্যাগ করেছেন দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: