মাগুরায় ঢাবির ছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, ঈদের ছুটি শেষে মাগুরা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক ছাত্রীকে দুর্বৃত্তরা ধর্ষণের পর তার ক্ষতবিক্ষত লাশ রাস্তার পাশে ফেলে দিয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের কোনো ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত নয়। প্রকৃতপক্ষে, ঠাকুরগাঁওয়ে তান্ত্রিক কর্তৃক এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনার ভিডিও আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘সময় সংবাদ ঠাকুরগাঁও’ নামক ফেসবুক পেজে গত ০১ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর একটি দৃশ্যের সাথে আলোচিত ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, এটি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুড়িয়া ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রাম থেকে পুলিশ কর্তৃক এক নারীর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য।
উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম ‘কুমিল্লার প্রতিচ্ছবি’ এর ওয়েবসাইটে গত ০১ জুন ‘হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত ভিডিওটির দৃশ্যের মিল রয়েছে।
উক্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সংযুক্ত ছবিটি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রাম থেকে পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারকৃত মোছা. নাসিমা (৩৫) নামক এক নারীর দগ্ধ মরদেহের। তিনি রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের বাগানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল্লার দ্বিতীয় স্ত্রী।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মরদেহের অবস্থা এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
এ বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধানে একাধিক গণমাধ্যম (১, ২) সূত্রে জানা যায়, মো. শামসুল হক (৫২) নামের এক কথিত তান্ত্রিক স্বর্ণের কলস পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নাসিমা আক্তারকে হত্যা করে।
গত ২ জুন রাতে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন জানান, সসন্দেহভাজন তান্ত্রিক মো. শামশুল হককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। ঘটনার দিন নাসিমা তান্ত্রিককে বলেন, সেদিন যেন তিনি স্বর্ণের কলসি বা স্বর্ণের পুতুল ছাড়া বাড়ি না ফেরেন। যেকোনো উপায়ে সেদিনই তাকে স্বর্ণ দিতে হবে বলে চাপ দেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় তান্ত্রিক পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাসিমাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তন্ত্র-মন্ত্রের আচার পালনের কথা বলে তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে টান দেন। একপর্যায়ে শ্বাসরোধে নাসিমার মৃত্যু হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ও আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে কবিরাজ দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে নাসিমার বোরখায় আগুন ধরিয়ে দেন। তবে আগুন পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিভে যায়। এ কারণেই মরদেহের পেছনের অংশে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়।
উক্ত প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী নাসিমা আক্তার ধর্ষিত হয়েছে শীর্ষক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, মাগুরায় ঢাবির আইন বিভাগের ছাত্রী
ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার গৃহবধূর লাশের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- সময় সংবাদ ঠাকুরগাঁও – Facebook Post
- কুমিল্লার প্রতিচ্ছবি – হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী
- একুশে টিভি – স্বর্ণের কলসের লোভে নাসিমাকে হত্যা করে তান্ত্রিক, রহস্য উদঘাটন
- Daily Sun – বলি গৃহবধূ, কথিত তান্ত্রিক গ্রেপ্তার

