গত মে মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের ছবি সংযুক্ত একটি ফটোকার্ড প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ঢাবি ভিসি ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি যতদিন ঢাবির ভিসি আছি ডাকসুকে কার্যকর হতে দিব না। ডাকসুর মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সকল উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েই আমি ভিসি মনোনয়ন পেয়েছি’।
আলোচিত ফটোকার্ডটি প্রচার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘কান ধরে টানতে টানতে বর্ডার পার করে দেওয়া উচিৎ এই ধরনের বেয়াদব গুলোকে। এরা ভারতীয় বীর্য আর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির গবরে চাষকৃত উন্নত মানের তেলবাহী ভারতীয় দালাল। এই ধরনের লম্পট গুলো কিভাবে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ভিসি হয়!!!’
এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিসি থাকাকালীন ডাকসুকে কার্যকর হতে দিবেন না শীর্ষক প্রচারিত মন্তব্যটি করেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। প্রকৃতপক্ষে কোনোরকম নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে ফটোকার্ডটি তৈরি করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রচারিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করলে তাতে ‘Channel420′ লেখা সংবলিত একটি লোগো দেখা যায়। এরই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে একই লোগোর ছবি প্রোফাইল ছবিতে সংযুক্তিসহ ‘Channel420′ নামের একটি ফেসবুক পেজ পাওয়া যায়। পেজের বায়োতে বলা হয়, ‘শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য পোস্ট করা হয়’। তবে পেজটিতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে ঢাবি ভিসির এরূপ কোনো মন্তব্য করার দাবির সপক্ষে মূলধারার সংবাদমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রচারিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করলে তাতে গুগলের এআই জেমিনির লোগোর সংযুক্তি দেখা যায়। সাধারণত জেমিনির সাহায্যে কোনো ছবি তৈরি বা সম্পাদনা করলে জেমিনির লোগো এভাবে সংযুক্ত হয়ে থাকে।

পরবর্তীতে প্রচারিত ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কি না তা যাচাই করতে রিউমর স্ক্যানার টিম গুগলের জেমিনিতে সংযুক্ত বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ‘SynthID’ ব্যবহার করে। গুগলের এই প্রযুক্তি এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও বা অডিওতে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও গুগলের নিজস্ব টুলের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। ছবিটি সিন্থআইডি দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি গুগলের এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি বা সম্পাদিত।
সুতরাং, ঢাবি ভিসি ওবায়দুল ইসলাম দায়িত্বে থাকাকালীন ডাকসুকে কার্যকর হতে দিবেন না শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- AI Analysis
- Rumor Scanner’s analysis


