ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষ দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যাতে কেন্দ্রস্থানীয় পদগুলোতে শিবির সমর্থিত প্যানেল জয়লাভ করে। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ডাকসু নির্বাচন বয়কট করে। সেদিন রাতেই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলও করা হয়। তবে এর আগেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেদিন বিকেল থেকেই একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, কথিত দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে অবস্থিত দোয়েল চত্বরে হয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওতে সংঘর্ষের মধ্য থেকে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খানকে বের হতেও দেখা যায়।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় বরং, ২০২২ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ২০২২ সালের ২৪ মে অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম ঢাকা পোস্টের ইউটিউব চ্যানেলে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ শিরোনামে প্রচারিত একটি সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেসময় হওয়া ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষের এই লাইভ ভিডিওর ৭ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ফুটেজ থেকে ৮ মিনিট ৯ সেকেন্ড পর্যন্ত ফুটেজের সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে। এছাড়াও সরাসরি সম্প্রচারণাকারী গণমাধ্যমকর্মীর ব্রিফিংয়ের মিলও পাওয়া যায়। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে যে, আলোচিত ভিডিওটি উক্ত ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনার। এছাড়াও উক্ত ভিডিওতেও মো. আবিদুল ইসলাম খানকে দেখতে পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চে আরেক অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যম ঢাকা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের উক্ত সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেসময় ছাত্রদলের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের বিরুদ্ধে এক সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠে। যার ব্যাখ্যা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে ছাত্রদল একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। যেখানে যাওয়ার সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়। যাতে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পরবর্তীতে ছাত্রদল মিছিল নিয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলে ফের ছাত্রলীগের বাধার সম্মুখীন হয় বলেও জানা যায়। এঘটনা নিয়ে সেসময় আবিদুল ইসলাম খান বক্তব্যও প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে চাইলে তারা বাধা দেয়, এরপর আমরা প্রতিরোধ করি।’ অর্থাৎ, উক্ত সংঘর্ষের সময় আবিদুল ইসলাম খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগেই ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের দাবিতে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: