সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর কার্যকরী সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়ার ছবি সংবলিত কিছু ফটোকার্ড প্রচার করে দাবি করা হয় যে তিনি মারা গেছেন। একটি ফটোকার্ডে মূল ধারার গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের লোগোও সংযুক্ত ছিল।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
টিকটিকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাকসু সদস্য রাফিয়ার মৃত্যুর দাবিটি সঠিক নয় এবং বাংলা ট্রিবিউনও এমন কোনো ফটোকার্ড প্রচার করেনি। প্রকৃতপক্ষে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বগুড়া জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাফিয়া সুলতানা রাফির মৃত্যুর ঘটনাকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজে এমন কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি গণমাধ্যমটি ৯ এপ্রিল এক ফেসবুক পোস্টে নিশ্চিত করেছে যে তাদের লোগো ব্যবহার করে আলোচিত ভুয়া ফটোকার্ডটি প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে, গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত যুগান্তরের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বগুড়া জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাফিয়া সুলতানা রাফি বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর। রাফিয়া রাফি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০১৯ সালে রোকেয়া হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হন। এছাড়া ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বগুড়া জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ছাড়া তিনি গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া, ডাকসু সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া নিজেই তার ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন যে তিনি সুস্থ আছেন, অনেকেই তাকে রাফিয়া সুলতানা রাফির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন।
সুতরাং, এনসিপি নেত্রী রাফিয়া সুলতানা রাফির মৃত্যুর ঘটনাকে ভুলভাবে ডাকসু সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে যে দাবি প্রচারিত হয়েছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
তথ্যসূত্র
- Bangla Tribune – Facebook Post
- Jugantor – এনসিপি নেত্রী রাফিয়া রাফি মারা গেছেন
- Umma Uswatun Rafia – Facebook Post
- Rafia Rafi – Facebook Account


