‘কিল ঘুষির সময় এনসিপি নেতারা পালিয়ে যায়’ শীর্ষক মন্তব্য করেননি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

২২ মে শুক্রবার ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে হামলার শিকার হয়েছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘আমাকে যখন কিল – ঘুষি মারা হয় এনসিপির নেতারা আমাকে রেখে পালিয়ে যায়’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে মূলধারার সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, “আমাকে যখন কিল – ঘুষি মারা হয় এনসিপির নেতারা আমাকে রেখে পালিয়ে যায়” শীর্ষক তথ্যে বা শিরোনামে কালের কণ্ঠ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও এরূপ কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় কালের কণ্ঠের ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনার মাধ্যমে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে কালের কণ্ঠের লোগো এবং ফটোকার্ডটি প্রচারের তারিখ হিসেবে ‘২২ মে, ২০২৬’ উল্লেখ রয়েছে।
কালের কণ্ঠের লোগোর সূত্র ধরে পত্রিকাটির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো গণমাধ্যমেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, গত ২২ মে “আমাকে কিল-ঘুষি মারা হয়, নিয়ে গেছে ফোন-মানিব্যাগ” শীর্ষক শিরোনামে একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সাথে এর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। মূল ফটোকার্ডের‘আমাকে কিল-ঘুষি মারা হয়, নিয়ে গেছে ফোন-মানিব্যাগ’ শীর্ষক বাক্যের পরিবর্তে আলোচিত ফটোকার্ডটিতে ‘আমাকে যখন কিল – ঘুষি মারা হয় এনসিপির নেতারা আমাকে রেখে পালিয়ে যায়’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে। এছাড়া, ফটোকার্ড দুইটির ফন্ট ডিজাইনেও খানিকটা অমিল রয়েছে।

অর্থাৎ, কালের কণ্ঠের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
উক্ত ফটোকার্ডের মন্তব্য বিভাগে সংযুক্ত লিঙ্কের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঝিনাইদহে হামলার শিকার হয়েছেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তাকে কিল-ঘুষি মারা হয় বলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানিয়েছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুক পোস্টে জানান, ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিপরীতে পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা শুরু করে।
সুতরাং, ‘আমাকে যখন কিল – ঘুষি মারা হয় এনসিপির নেতারা আমাকে রেখে পালিয়ে যায়’ শিরোনামে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারিকে উদ্ধৃতি করে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Kaler Kantho – Facebook Post
- Kaler Kantho – Website

