তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মেজর হাফিজের মন্তব্য দাবিতে চ্যানেল২৪ নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি, ‘বাবা রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান, মা প্রধানমন্ত্রী, তবুও ছেলে কেন HSC ফেল? লন্ডন ছিল ১৫ বছর, তাহলে কিসের অভাব ছিল তার? অর্থ, ক্ষমতা না কি সদিচ্ছার?’ শীর্ষক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদের মন্তব্য দাবিতে সংবাদমাধ্যম চ্যানেল২৪ এর লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং উক্ত শিরোনামে চ্যানেল২৪ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে প্রকাশিত চ্যানেল২৪ এর ভিন্ন ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তার সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে চ্যানেল২৪ এর লোগো এবং এটি প্রকাশের তারিখ ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। এর সূত্রে চ্যানেল২৪ এর ফেসবুক পেজে ২১ জানুয়ারি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বক্তব্য সংবলিত ‘কিছুটা বাধ্য হয়েই বিএনপি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে’ শিরোনাম সংবলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সাথে এর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তবে আলোচিত ফটোকার্ডটিতে ‘বাবা রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান, মা প্রধানমন্ত্রী, তবুও ছেলে কেন HSC ফেল? লন্ডন ছিল ১৫ বছর, তাহলে কিসের অভাব ছিল তার? অর্থ, ক্ষমতা না কি সদিচ্ছার?’ শীর্ষক বাক্যের পরিবর্তে ‘কিছুটা বাধ্য হয়েই বিএনপি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে’ শীর্ষক বাক্য লেখা রয়েছে।

অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় চ্যানেল২৪ এর ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সংবলিত পোস্টটির কমেন্টে পাওয়া সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গণভোটের কোন আইনগত ভিত্তি নেই। একটি জনগোষ্ঠী সম্পূর্ণভাবে এটি জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এছাড়া, যেভাবে গণভোটের প্রচার করা হয়েছে, তার মধ্যে অনেক বিভ্রান্তি আছে- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। গত ২১ জানুয়ারি বিকেলে ভোলার লালমোহন উপজেলার উত্তর বাজার এলাকায় মদন মোহন মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মত বিনিময় শেষে এসব কথা বলেন তিনি।এ সময় হাফিজ উদ্দিন আরো বলেন, গণভোটে সংবিধান সংশোধন হবে, যেটা একমাত্র জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা করতে পারে। আর এখানে ঢাকার একটা এলিট গোষ্ঠী জনগণের উপর বিষয়টি চাপিয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশ এখনো এ ধরনের ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়। আমাদের দল বিএনপি এটাতে প্রথমে রাজি হয়নি। বিএনপি রাজি না হলে দেখা গেল নির্বাচনেই হবে না। তাই অবস্থার প্রেক্ষিতে বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছে। সুতরাং আমরা কিছুটা বাধ্য হয়েই হ্যাঁ ভোট দেয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। তারপর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে সংবিধানকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে।

তবে এই প্রতিবেদন এবং অন্যান্য গণমাধ্যম সূত্রে আলোচিত দাবিটির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদের মন্তব্য দাবিতে চ্যানেল২৪ এর নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: