সংসদে আ. লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলায় সালাহউদ্দিন আহমেদকে থামাননি স্পিকার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ অধিবেশনের একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়, সংসদে আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলায় রেগে গিয়ে সালাহউদ্দিনের বক্তব্য থামিয়ে দিলেন স্পিকার। ভিডিওতে শোনা যায়, সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই বিলটা হলো একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের” এরপরই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করে বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী নামের শেষে একটি বিশেষণ লাগিয়েছেন, সেটা এক্সপাঞ্জ করা হলো। তবে সংসদে আমরা আর তাকে অবমাননা করতে চাই না। পার্লামেন্টে রীতি-রেওয়াজ আছে, যেটা আমরা ভঙ্গ করতে চাই না।”

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফেসবুকে প্রচারিত উক্ত দাবির পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে উল্লেখ করায় সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য থামিয়ে দেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, তার সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিওর সঙ্গে ভিন্ন একটি ভিডিওর অংশ সংযোজন করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের ইউটিউব চ্যানেলে গত ৮ এপ্রিল প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাবনার আগে বলেন, “এই বিলটি হলো একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ-সংক্রান্ত একটি সংশোধনী। আগের যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ছিল, তা সংশোধনের জন্য। বিরোধীদলীয় নেতার নিশ্চয় স্মরণ থাকার কথা, ওনারা এবং এনসিপির বন্ধুরা সবাই মিলে একটি আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মোটামুটি বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে তাদের (আওয়ামী লীগের) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধনও স্থগিত হয়ে আছে। এই আইনের অনুবলে পরবর্তীতে ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইসিটি অ্যাক্টকেও (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন) পরিবর্তন এনে সংগঠনের বিচারে বিধান যুক্ত করে সেই আইনটাও সংশোধন করা হয়েছে।” উক্ত বক্তব্যেরই প্রথম অংশটি কেটে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে সংযোজন করা হয়েছে।

অপরদিকে, গত ৯ এপ্রিল একাত্তর টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সংসদ অধিবেশনের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, “মানিকচোরা শব্দটা এখানকার (সংসদ অধিবেশন) জন্য অশোভনীয় হতে পারে, কিন্তু বাইরে এই শব্দটা এইভাবেই চলছে।”

তার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “বিচারক বিল রহিতকরণ বিল ২০২৬ পাসের আলোচনার সময় মাননীয় সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান একজন বিচারপতি মানিক সম্পর্কে তার নামের শেষে একটি বিশেষণ যুক্ত করেছেন, সেটা এক্সপাঞ্জ করা হলো। এই বিচারপতির অবশ্য সীমান্ত এলাকায় কলাপাতার ওপর শোয়া অবস্থায় তার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। তবে তাকে সংসদে আমরা আর অবমাননা করতে চাই না।”

এই বক্তব্যেরই কিছু অংশ কেটে প্রচারিত ভিডিওর শেষাংশে (, ) যুক্ত করা হয়েছে।

সুতরাং, আওয়ামী লীগকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” বলায় সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্পিকার থামিয়ে দিয়েছেন এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সংসদ অধিবেশনের ভিন্ন দুটি প্রেক্ষাপটের বক্তব্য সংযোজনের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

  • The Daily Ittefaq – Youtube Video
  • Ekattor Television – Youtube Video
Share: