‘সন্ত্রাসী আসিফ মাহমুদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন’ শিরোনামে যমুনা টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জড়িয়ে যমুনা টিভির ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার। এই ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, ‘সন্ত্রাসী আসিফ মাহমুদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন।’ 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ফটোকার্ড দেখুন এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত শিরোনামে যমুনা টিভি কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে যমুনা টিভির লোগো দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি ফটোকার্ডটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১২ মার্চ, ২০২৬’ উল্লেখ পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত তথ্যগুলোর সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে গত ১২ মার্চ কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড প্রচারিত হয়নি। এছাড়াও সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা অন্যকোনো গণমাধ্যমে উল্লিখিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে গত ১২ মার্চ ‘আসিফসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ হত্যা মামলার আবেদন, গ্রহণ করেননি আদালত’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে।

তবে, উভয় ফটোকার্ডের শিরোনামে পার্থক্য রয়েছে। যমুনা টিভির ফটোকার্ডে ‘আসিফসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ হত্যা মামলার আবেদন, গ্রহণ করেননি আদালত’ শিরোনাম থাকলেও আলোচিত ফটোকার্ডে ‘সন্ত্রাসী আসিফ মাহমুদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন।’ শীর্ষক বাক্য লেখা রয়েছে।

এছাড়াও যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের পার্থক্যও স্পষ্ট। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে উক্ত ফটোকার্ডটির শিরোনাম পরিবর্তন করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, আসিফ মাহমুদকে জড়িয়ে যমুনা টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: