‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতা’— রাশেদ খাঁনের নামের ভুয়া মন্তব্যটি কালবেলা প্রকাশ করেনি

সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কালবেলার নাম ও লোগো ব্যবহার করে তৈরি একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। যেখানে দাবি করা হয়, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন বলেছেন, “জনাব তারেক রহমান সাহেব ভারতে মুচলেকা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণ করার কারণে দেশের আজ এই দুরাবস্থা।”

ফেসবুকে প্রচারিত উক্ত দাবির পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, “জনাব তারেক রহমান সাহেব ভারতে মুচলেকা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণ করার কারণে দেশের আজ এই দুরাবস্থা।” শিরোনামে কালবেলা কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি এবং রাশেদ খাঁনও এমন কোনো মন্তব্য করেননি বরং, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় গণমাধ্যমটির ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনার মাধ্যমে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে মূলধারার গণমাধ্যম কালবেলার লোগো এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। এরই সূত্র ধরে কালবেলার ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত শিরোনাম সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া কালবেলার ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো গণমাধ্যমেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, গত ২৩ এপ্রিল কালবেলার ফেসবুক পেজে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির ছবি, প্রকাশের তারিখ এবং গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য বিদ্যমান কিন্তু শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের ক্ষেত্রে অমিল রয়েছে। এছাড়া এই ফটোকার্ডটিতে ‘যা শুরু করেছেন, আপনাদের কারণেই আওয়ামী লীগ ফিরবে’ শীর্ষক বাক্য রয়েছে, যা আলোচিত ফটোকার্ডে পরিবর্তন করে ‘জনাব তারেক রহমান সাহেব ভারতে মুচলেকা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণ করার কারণে দেশের আজ এই দুরাবস্থা’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, কালবেলার এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
মূল ফটোকার্ড সংবলিত পোস্টটির কমেন্টে পাওয়া এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন বলেন, শিবির তাদের সকল নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে আনতে অনীহা প্রকাশ করে, যার অন্যতম কারণ সরকারি চাকরিতে সম্ভাব্য জটিলতা। তার মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাধার আশঙ্কা থাকায় সংগঠনটি তাদের একটি বড় অংশকে সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে রাখে এবং আরেকটি অংশকে ক্ষমতাসীন মহলে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করে, যাতে পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বজায় থাকে।
তিনি আরও বলেন, এই নীতির ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচয় নিয়ে সন্দেহ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, যা একটি বড় ধরনের সংকটের জন্ম দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি শিবিরকে প্রকাশ্য রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল ও সহনশীল রাজনৈতিক আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তার মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মেধার ভিত্তিতে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও হুমকিমূলক অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি সমান সুযোগ প্রত্যাশা করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রাশেদ খান শিবিরের উদ্দেশ্যে আরও লেখেন, “সেই সহনশীল পরিবেশ তৈরি করতে আপনাদের যথেষ্ট সহনশীল হতে হবে। নতুবা যা শুরু করেছেন, আপনাদের কারণেই আওয়ামীলীগ ফিরবে। আর লীগ ফিরলে সকল হাউকাউ কিন্তু তারাই বন্ধ করে দিবে…!”
এছাড়া মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে আলোচিত দাবিটি সমর্থন করে এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, রাশেদ খাঁন “জনাব তারেক রহমান সাহেব ভারতে মুচলকা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণ করার কারণে দেশের বর্তমান দুরাবস্থা” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে কালবেলার নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Kalbela – Facebook Post
- Kalbela – ‘যা শুরু করেছেন, আপনাদের কারণেই আওয়ামী লীগ ফিরবে’

