হাতির ক্লান্ত সিংহশাবককে শুঁড়ে তুলে নেওয়ার দাবিতে ভাইরাল এই ছবিটি এডিটেড

সম্প্রতি ‘শতাব্দীর সেরা ছবি‘ দাবিতে একটি হাতি ও সিংহশাবকের ছবি সম্বলিত তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমনকিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

যা দাবি করা হচ্ছে

প্রচারিত ছবিটিতে বলা হচ্ছে “ছবিটি তোলা হয়েছিল সাভানায়, একটি সিংহ শিশু যখন তপ্ত রৌদের মধ্য দিয়ে আর চলতে পারছিল না তখন হাতিটিই সাহায্যে এগিয়ে গেল। শিশুটিকে শুঁড়ে তুলে নিল আর পাশে চলল মা।”

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, হাতির ক্লান্ত সিংহশাবককে শুঁড়ে তুলে নেওয়ার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি বাস্তব নয় বরং এটি ফটোশপের সাহায্যে এডিট করে তৈরি করা ছবি।

অনুসন্ধানের শুরুতে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে Wikimedia Commons নামের একটি ওয়েবসাইটে ২০০৫ সালের ১১ আগস্ট ‘File:Elephant side-view Kruger.jpg’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়।

ছবিটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, এটি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের একটি পুরুষ সাভানা হাতি।

এই ছবিটির সাথে প্রচারিত হাতি ও সিংহশাবকের ছবিটির হাতির অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া, Latest Sightings নামের একটি ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের ০২ এপ্রিল ‘How To Make Your April Fool’s Joke Go Viral!’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, এটি একটি অবাস্তব ছবি। এই ছবিটি এপ্রিল ফুল উপলক্ষ্যে ফটোশপের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে Nadav Ossendryver নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্টে ২০১৮ সালের ০২ এপ্রিল প্রকাশিত একটি টুইট খুঁজে পাওয়া যায়। টুইটের বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, Nadav Ossendryver নামের এই ব্যক্তিই ভাইরাল ছবিটির মূল কারিগর।

উক্ত টুইটটি থেকেও নিশ্চিত হওয়া যায় যে, প্রচারিত ছবিটি বাস্তব নয়।

মূলত, সম্প্রতি একটি হাতির ক্লান্ত সিংহশাবককে শুঁড়ে তুলে নেওয়ার একটি ছবি বাস্তব দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি বাস্তব নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি ফটোশপের সাহায্যে এডিট করে তৈরি করা হয়েছে। এডিটেড ঐ ছবিটির মূল কারিগর Nadav Ossendryver নামের এক ব্যক্তি। ছবিটি তিনি ২০১৮ সালে টুইটারে প্রকাশ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, পূর্বেও ‘সবচেয়ে সুন্দর হাতির ছবি’ দাবিতে একটি এডিটেড ছবি প্রচার করা হলে সেসময় বিষয়টি নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, হাতির ক্লান্ত সিংহশাবককে শুঁড়ে তুলে নেওয়ার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এডিটেড।

তথ্যসূত্র

Share: