‘মাদ্রাসা শিক্ষককে বলাৎকার, ছাত্র গ্রেফতার’ দাবিতে সময়ের কণ্ঠস্বরের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার 

সম্প্রতি, “সাভারে মাদ্রাসা শিক্ষককে বলা/ৎকার মাদ্রাসার ছাত্র গ্রেফতার” শীর্ষক তথ্যে বা শিরোনামে জাতীয় দৈনিক সময়ের কণ্ঠস্বরের ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ড ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, “সাভারে মাদ্রাসা শিক্ষককে বলা/ৎকার মাদ্রাসার ছাত্র গ্রেফতার” শীর্ষক তথ্যে বা শিরোনামে জাতীয় দৈনিক সময়ের কণ্ঠস্বর কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি বরং, সময়ের কণ্ঠস্বরের ভিন্ন তথ্যে বা শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে সময়ের কণ্ঠস্বরের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ১৭ জুন, ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।

সময়ের কণ্ঠস্বরের লোগো ও ফটোকার্ড প্রকাশের তারিখের সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, সময়ের কণ্ঠস্বরের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির পক্ষে কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, গত ১৭ জুন গণমাধ্যমটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে “সাভারে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভি/যোগ, প্রিন্সিপাল গ্রেফতার” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির সাথে এই ফটোকার্ডটির ডিজাইন ও ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির হুবহু মিল রয়েছে। সময়ের কণ্ঠস্বরের মূল ফটোকার্ডটিতে “সাভারে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভি/যোগ, প্রিন্সিপাল গ্রেফতার” শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে “সাভারে মাদ্রাসা শিক্ষককে বলা/ৎকার মাদ্রাসার ছাত্র গ্রেফতার” শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, সময়ের কণ্ঠস্বরের এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সম্বলিত সময়ের কণ্ঠস্বরের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝোড়া শাহী মসজিদ এলাকায় শামসুল উলূম খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল মাওলানা গোলাম রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পাশাপাশি, আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো তথ্য অন্য কোনো গণমাধ্যমেও পাওয়া যায়নি।

সুতরাং “সাভারে মাদ্রাসা শিক্ষককে বলা/ৎকার মাদ্রাসার ছাত্র গ্রেফতার” শিরোনামে সময়ের কণ্ঠস্বরের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: