আজকের পত্রিকা’র ফটোকার্ড নকল করে তারেক রহমানকে নিয়ে পিটার হাসের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

সম্প্রতি, ‘লন্ডন পলাতক তারেক জিয়ার ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে’ শীর্ষক শিরোনামে একটি তথ্য বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের মন্তব্য দাবিতে মূলধারার গণমাধ্যম আজকের পত্রিকা’র ফটোকার্ডের ডিজাইন সম্বলিত একটি ছবি মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।

তারেক রহমান

ফেসবুকে প্রচারিত এমন একটি পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ‘লন্ডন পলাতক তারেক জিয়ার ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে’ শীর্ষক কোনো মন্তব্য করেননি এবং আজকের পত্রিকাও উক্ত শিরোনামে কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি বরং আলোচিত এই ফটোকার্ডটি ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় এডিট করে তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আজকের পত্রিকা’র ফটোকার্ডের ডিজাইন সম্বলিত ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। সেখানে এই সংবাদটি প্রচারের কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ফটোকার্ডটিতে থাকা আজকের পত্রিকা’র লোগোর সূত্র ধরে আজকের পত্রিকার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সাম্প্রতিক সময়ে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। সেখানে উক্ত শিরোনাম বা তথ্য সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও আজকের পত্রিকা’র ওয়েবসাইট কিংবা অন্যকোনো গণমাধ্যমেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

তবে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আজকের পত্রিকা’র ফেসবুক পেজে ‘গণমাধ্যমের ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড এবং এর কমেন্টে একই শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে আগামীতে গণমাধ্যমও ভিসানীতিতে যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

অর্থাৎ, আজকের পত্রিকা’র ফেসবুক পেজে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রচারিত এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম এডিট করে তাতে ‘লন্ডন পলাতক তারেক জিয়ার ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে’ শীর্ষক শিরোনাম যুক্ত করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি হয়েছে।

মূলত, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমেরিকার ভিসানীতিতে গণমাধ্যমও যুক্ত হতে পারে বলে জানান। এরই প্রেক্ষিতে আজকের পত্রিকা’র ফেসবুক পেজে ‘গণমাধ্যমের ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে’ শীর্ষক শিরোনামে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম বিকৃত করে তাতে ‘লন্ডন পলাতক তারেক জিয়ার ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে’ শীর্ষক শিরোনাম যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার গত ২২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

গত আট মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমের নাম, লোগো, শিরোনাম এবং নকল ফটোকার্ড ব্যবহার করে অপপ্রচারের বিষয়ে বিস্তারিত ফ্যাক্ট ফাইল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, মূলধারার গণমাধ্যম আজকের পত্রিকাকে উদ্ধৃত করে ‘লন্ডন পলাতক তারেক জিয়ার ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে’ শীর্ষক দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা এবং উক্ত ফটোকার্ডটিও এডিটেড বা বিকৃত।

তথ্যসূত্র

Share: