আমেরিকা ও সেনাবাহিনী নিয়ে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য দাবিতে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি আমেরিকা ও সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য দাবিতে একাধিক গণমাধ্যমেরর লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এর মধ্যে ইত্তেফাক এর ফটোকার্ডে উল্লেখ করা হয় ‘আমেরিকা ও সেনাবাহিনীর এক অংশের কাছে আমি জিম্মি, আমার সকল বক্তব্য তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত: রাষ্ট্রপতি’

ডিবিসি নিউজ এর ফটোকার্ডে উল্লেখ করা হয় ‘আগস্টের পর থেকে আমি জিম্মি, আমেরিকা ও সেনাবাহিনীর এক অংশ আমাকে যা লিখে দেয় যা বলতে বললে আমি তাই বলতে বাধ্য’

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আমেরিকা ও সেনাবাহিনী নিয়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং উল্লিখিত গণমাধ্যমগুলোও এরূপ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি৷ প্রকৃতপক্ষে, এসব গণমাধ্যমের ভিন্ন শিরোনামের ফটোকার্ডকে সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে৷

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পৃথকভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।

ইত্তেফাক এর ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে ইত্তেফাকের লোগোর উল্লেখ পাওয়া যায়। এরই সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে  এমন কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, দৈনিক ইত্তেফাকের ফেসবুক পেজে ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের একই ছবি সংযুক্ত ‘সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতীত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। দৈনিক ইত্তেফাকের মূল ফটোকার্ডটিতে ‘সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে: রাষ্ট্রপতি’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘আমেরিকা ও সেনাবাহিনীর এক অংশের কাছে আমি জিম্মি, আমার সকল বক্তব্য তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত: রাষ্ট্রপতি’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, দৈনিক ইত্তেফাকের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
মূল ফটোকার্ড সংবলিত দৈনিক ইত্তেফাকের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে একপর্যায়ে এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রবাসী তথা সকল শ্রেণি পেশার মানুষ, গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলসহ সকলের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে তাবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়।

ডিবিসি নিউজ এর ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটিতে ডিবিসি নিউজের লোগো এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১২ মার্চ ২০২৬’ উল্লেখ করা রয়েছে।

উক্ত সূত্রগুলো ধরে অনুসন্ধানে ডিবিসির ফেসবুক পেজ থেকে গত ১২ মার্চ প্রকাশিত এমন ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, ডিবিসির ওয়েবসাইটেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, ডিবিসির ফেসবুক পেজে ১২ মার্চ ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। হাজারো শহিদের রক্তের ওপর দিয়ে তাবেদার ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের সূচনা হয়’ শীর্ষক তথ্য বা শিরোনাম সংবলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায় যেটির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির আংশিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রচারিত ফটোকার্ডে ডিবিসি নিউজের লোগো এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবির মিল রয়েছে, তবে উভয়ের শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। মূলত, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। হাজারো শহিদের রক্তের ওপর দিয়ে তাবেদার ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের সূচনা হয়’ শিরোনামে ডিবিসি নিউজের উক্ত ফটোকার্ডটির মূল শিরোনামের স্থলে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ‘২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে আমি জিম্মি, আমেরিকা ও সেনাবাহিনীর এক অংশ আমাকে যা লিখে দেয় যা বলতে বললে আমি তাই বলতে বাধ্য মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি’ শিরোনামটি প্রতিস্থাপন করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

অর্থাৎ, ডিবিসি নিউজের লোগো ও ডিজাইন নকল করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি করা হয়েছে।

উল্লিখিত গণমাধ্যমগুলো ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে উক্ত দাবিকে সমর্থন করে এমন কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি৷

সুতরাং, আমেরিকা ও সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য দাবিতে দুই গণমাধ্যমের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: