জাকসু ভিপি জিতুর বিএনপিতে যোগদান নিয়ে ভুয়া তথ্য ও গণমাধ্যমের সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার 

গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতুসহ কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধি বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলে যোগদান করেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি পোস্টে দাবি করা হয়, জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এছাড়াও জিতুর বিএনপিতে যোগদানের ঘটনায় ‘পাচ লাখ টাকার বিনিময়ে জাকসু ভিপি জিতু যোগ দিলেন বিএনপিতে’ শিরোনামে মূলধারার গণমাধ্যম সমকাল ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে দাবিতে গণমাধ্যমটির লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হতে দেখা যায়।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত এমন ফটোকার্ড দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাকসু ভিপি জিতুর জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে বিএনপিতে যোগদানের দাবিটি সঠিক নয়। এছাড়াও ‘পাচ লাখ টাকার বিনিময়ে জাকসু ভিপি জিতু যোগ দিলেন বিএনপিতে’ শিরোনামে সমকালও কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, জিতুর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার দাবিটি ভুয়া। জুলাই অভ্যুত্থান পূর্ববর্তী সময়ে তার ছাত্রলীগের রাজনীতের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। অপরদিকে সমকালের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি মূলত ওই গণমাধ্যমের ভিন্ন আরেকটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছে।

জামায়াত সংশ্লিষ্টতার তথ্য যাচাই

জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতুর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে তার বিএনপিতে যোগদানের ঘটনায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জিতু বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য ছিলেন এবং আল-বেরুনী হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরুতে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ক পদ থেকে সরে গিয়ে ‘গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন এবং এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি বিএনপিতে যোগ দিলেন।

উক্ত দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে ছাত্রলীগের অফিসিয়াল পেজে ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর প্রচারিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন কমিটির ছবিগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আকতারুজ্জামান সোহেল ও মো. হাবিবুর রহমান লিটনের কমিটিতে আবদুর রশিদ জিতু সদস্য ছিলেন।

এছাড়াও সেসময় তার ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ঘটনায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে করা ফেসবুক পোস্টের সন্ধানও পাওয়া যায়। কিন্তু অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে জিতুর জামায়াতে ইসলামী কিংবা ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতুর জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে বিএনপিতে যোগদানের দাবিটি মিথ্যা।

সমকালের ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে সমকালের লোগো ও জিতুর বিএনপিতে যোগদানের একটি ছবি রয়েছে। পাশাপাশি ফটোকার্ডটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে সমকালের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, সমকালের ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা অন্যকোনো গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবিটির সাথে সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি।

তবে, সমকালের ফেসবুক পেজে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ‘জাকসু ভিপি জিতু যোগ দিলেন বিএনপিতে’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড প্রচারিত হতে দেখা যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি, গ্রাফিক্যাল ডিজাইন এমনকি প্রকাশের তারিখের সাথেও এর সাদৃশ্য রয়েছে।

কিন্তু উভয় ফটোকার্ডে শিরোনামে পার্থক্য রয়েছে। সমকালের ফটোকার্ডে ‘জাকসু ভিপি জিতু যোগ দিলেন বিএনপিতে’ শিরোনাম থাকলেও আলোচিত ফটোকার্ডে ‘পাচ লাখ টাকার বিনিময়ে জাকসু ভিপি জিতু যোগ দিলেন বিএনপিতে’ শীর্ষক বাক্যটি লেখা রয়েছে। এছাড়াও সমকালের ফটোকার্ডের শিরোনামে ব্যবহৃত প্রচলিত ফন্টের সাথেও আলোচিত দাবিতে প্রচারি ফটোকার্ডের ফন্টের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি উক্ত ফটোকার্ডটিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।

পাশাপাশি সমকালের ফটোকার্ড পোস্টটির মন্তব্যের ঘর থেকে প্রাপ্ত মূল প্রতিবেদনেও আলোচিত দাবিটির স্বপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতুর জামায়াতে ইসলামী ছেড়ে বিএনপিতে যোগদানের দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা এবং ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তার বিএনপি যোগদানের দাবিতে সমকালের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: