প্রধান উপদেষ্টাকে জড়িয়ে দুই গণমাধ্যমের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ‘লাইভ টিভি’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জড়িয়ে দুইটি গণমাধ্যমের নামে দুইটি ভিন্ন ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।
যুগান্তরের লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ডে প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, ‘গনভোটে না ভোট জয়ী হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও তাদের অধিনে সংসদ নির্বাচন বৈধতা হারাবে, তাই গনভোটে হ্যাঁ ভোট জয়ের বিকল্প নাই।’
আমার দেশের লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ডে প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, তিনি ‘আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের সবচাইতে বড় বাধা ছিল বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তাদের কর্মকাণ্ডে আমি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম।’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন।

ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধান উপদেষ্টাকে জড়িয়ে যুগান্তর ও আমার দেশের নাম ও লোগো ব্যবহার করে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো আসল নয়। সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোও এসব ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, গণমাধ্যমগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ফটোকার্ড প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে এসব দাবি সংবলিত ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের স্বার্থে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো পৃথকভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।
যুগান্তরের নামে প্রচারিত ফটোকার্ড যাচাই
ফটোকার্ডে উল্লিখিত তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারির সূত্র ধরে যুগান্তরের ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে একইদিনে প্রধান উপদেষ্টার একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড প্রচারিত হতে দেখা যায়। প্রাপ্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতিত বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির হুবহু মিল পাওয়া যায়। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, উক্ত ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

আমার দেশের নামে প্রচারিত ফটোকার্ড যাচাই
পরবর্তীতে আমার দেশের লোগো সংবলিত ফটোকার্ডটির বিষয়ে অনুসন্ধানেও ফটোকার্ডে উল্লিখিত তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারির সূত্রে ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যালোচনায় এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ডের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে একইদিনে প্রচারিত ভিন্ন আরেকটি ফটোকার্ডের সন্ধান পাওয়া যায়া। যার সাথে আলোচিত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতিত বাকি সকল উপাদানের হুবহু মিল পাওয়া যায়। এছাড়াও আমার দেশের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যের ঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো গণমাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ‘লাইভ টিভি’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে জড়িয়ে দুইটি গণমাধ্যমের নামে প্রচারিত আলোচিত ফটোকার্ডগুলো সম্পাদিত।

