আজান চলাকালীন মসজিদে ইসরায়েলের হামলা দাবিতে সম্পাদিত ভিডিও প্রচার

চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মাঝে আজান চলাকালীন একটি মসজিদে ইসরায়েল ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। প্রচারিত ভিডিওটিতে আজানের ধ্বনি শুনতে পাওয়া অবস্থায় একটি মসজিদে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালাতে দেখা যায়। হামলার সঙ্গে সঙ্গেই আজানের ধ্বনি থেমে যায়।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

বেশকিছু সংবাদভিত্তিক ফেসবুক পেজগুলোতেও ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়। এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইউটিউবে প্রচারিত একই ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আজান চলাকালীন মসজিদে ইসরায়েলের ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালানোর দাবিটি সঠিক নয়। এছাড়াও ভিডিওটি চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতেরও নয়। প্রকৃতপক্ষে, দক্ষিণ লেবাননের একটি মসজিদে ইসরায়েলের পূর্বের একটি হামলার ভিডিওকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রচার করা হয়েছে। সেসময়ের মূল ভিডিওতে আজানের কোনো ধ্বনি শোনা যায়নি।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে MOSCOW NEWS নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়। ভিডিওটির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, এটি দক্ষিণ লেবাননের একটি মসজিদে ইসরায়েলের হামলা চালানোর ঘটনার ভিডিও ফুটেজ। প্রাপ্ত এই ভিডিওটি পর্যালোচনা করে এতে মসজিদটিতে হামলার আগে আজানের কোনো ধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়নি। বরং, একজন ব্যক্তিকে কথা বলতে শোনা যায়।

প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে Maktoob নামের একটি ভারতীয় গণমাধ্যম এবং কাতারভি্ত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার ফেসবুক পেজেও সেসময় উক্ত হামলার ভিডিওটি প্রকাশিত হতে দেখা যায়। মাধ্যমগুলোতে প্রাপ্ত ভিডিওগুলো প্রচারিত ভিডিওর বর্ধিত সংস্করণ হলেও এসব ভিডিওতে হামলার পূর্বে আজানের ধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়নি। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে শুনতে পাওয়া আজান সম্পাদনা করে যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও পোস্টগুলো থেকে জানা যায়, এটি চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কোনো ঘটনা নয়।

সুতরাং, আজান চলাকালীন মসজিদে ইসরায়েলের ক্ষেপনাস্ত্র হামলার দাবিটি মিথ্যা এবং উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

  • MOSCOW NEWS X Account Post
  • Maktoob Instagram Post
  • Al-Jazeera Facebook Page Post
Share: