খামেনি জীবিত আছেন বলে মন্তব্য করেননি ড. আব্দুল মজিদ, প্রচারিত ভিডিওটি সম্পাদিত

চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রচার করেছে। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি খামেনির বিষয়ে ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর প্রতিনিধি ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহীর সাংবাদিকদের দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও প্রচার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো জিবিত আছেন | রাখে আল্লাহ মারে কে .. ইনশাআল্লাহ ইরান পৃথিবীর বুকে একটি ইতিহাস করে যাবে’।

অর্থাৎ, দাবি করা হয়েছে ভিডিওতে ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহী বলেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত আছেন।

উল্লেখ্য, প্রচারিত ভিডিওতে ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহীকে বলতে শোনা যায়, ‘আয়াতুল্লাহ খামেনি তার অফিসেই ছিলেন এবং নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে বেশ কয়েকবার অফিস ছেড়ে অন্য কোনো শহরে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছিলেন, যদি আপনারা ৯০ কোটি ইরানিকে অন্য শহরে সরিয়ে নিতে পারেন, তবেই আমি যাব। তারা তাকে একটি নিরাপদ বেজমেন্ট করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি বলেছিলেন, যদি আপনারা সব ইরানির জন্য এমন বেজমেন্ট তৈরি করে দিতে পারেন… তবেই হবে। তিনি তার অফিস এবং বাড়িতেই অবস্থান করেন এবং সকালে জায়নবাদী গোষ্ঠী ও আমেরিকার বিমান..’। (অনূদিত) প্রচারিত ভিডিওতে শেষ লাইন সম্পন্ন করা হয়নি।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

একই দাবিতে টিকটক প্রাচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত আছেন বলেননি ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর প্রতিনিধি ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহী। প্রকৃতপক্ষে প্রচারিত ভিডিওরই দীর্ঘায়িত সংস্করণে ড. মজিদ বলেন যে খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে প্রচারিত ভিডিওতে নিহত অংশ সম্পাদনা করে বাদ দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এএনআই’ এর এক্স অ্যাকাউন্টে গত ১ মার্চে আলোচিত ভিডিওর দীর্ঘায়িত সংস্করণের একটি ভিডিও পাওয়া যায়।

‘এএনআই’ এর ভিডিওতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও যেখানে সমাপ্ত করা হয়েছে তার পরবর্তী অংশে ড. মজিদকে বলতে শোনা যায়, ‘সকালে জায়নবাদী গোষ্ঠী ও আমেরিকার বিমান/যুদ্ধবিমান তার (খামেনির) অফিসে হামলা চালায়। এতে তিনি, তার স্ত্রী, পুত্রবধূ এবং তার কয়েকজন ভাতিজা মৃত্যুবরণ করেন ও শহীদ হন। (অনূদিত) এ অংশ আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘উইয়ন’ এর ফেসবুক পেজেও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির দীর্ঘায়িত সংস্করণ (এএনআই এর সংস্করণ) পাওয়া যায় যাতে ড. মজিদকে একই কথা বলতে শোনা যায়।

উল্লেখ্য, এর আগের দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ড. মজিদ বলেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সুস্থ আছেন৷ তবে এর পরদিনই মৃত্যুর তথ্য জানান।

সুতরাং, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত আছেন বলে প্রচারিত ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহীর বক্তব্যের ভিডিওটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: