আর্জেন্টিনার ম্যাচ নিয়ে মিশরের কোচ ক্ষমা চেয়েছেন দাবিতে ভুয়া মন্তব্য প্রচার 

গত ৭ জুলাই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে ম্যাচের রেফারি নিয়ে সমালোচনা করেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। এরই প্রেক্ষিতে ম্যাচের একদিন পর গত ৯ জুলাই থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছে, “মিশর জাতীয় দলের কোচ ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে জানিয়েছেন: ”গতকালকের আমার আচরণ বা কর্মকাণ্ডের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি তৃতীয় গোলটি আবার পিছন ফিরে দেখেছি এবং বুঝতে পেরেছি যে আর্জেন্টিনা আমাদের সাথে কোনো অন্যায় (বা চুরি) করেনি। আমি আবেগের বশে এমনটা করে ফেলেছিলাম, এবং আমি দুঃখিত।”

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এছাড়াও, মূলধারার গণমাধ্যম যুগান্তর এর লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করেও আলোচিত দাবি প্রচার করে হয়েছে। টিকটকে প্রচারিত এরূপ পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, রেফারি নিয়ে সমালোচনা করায় মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান ক্ষমা চেয়ে আলোচিত মন্তব্য বা ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করেননি। প্রকৃতপক্ষে, কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভুয়া এই দাবি প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া, যুগান্তরও এরূপ দাবিতে কোনো ফটোকার্ড প্রচার করেনি।

আলোচিত দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘@GoalVersee’ ইউজারনেমের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে গত ৮ জুলাইয়ে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত সম্ভাব্য মূল পোস্টটি পাওয়া যায়। এক্স অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এটি ফুটবল বিষয়ক নানা পোস্ট করে থাকে। তবে এক্স পোস্টটি পর্যবেক্ষণে তাতে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো স্ক্রিনশট, স্ক্রিনরেকর্ড বা নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, মিশরের কোচ হোসাম হাসান ও তার জমজ ভাইয়ের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করলে তাতে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো পোস্ট বা স্টোরি পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে আন্তর্জাতিক কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, মিশরের কোচ এরূপ কোনো মন্তব্য করে থাকলে তা বিশ্বব্যাপী নানা মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচার করা হতো।

পরবর্তীতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত যুগান্তরের কথিত ফটোকার্ডের বিষয়ে অনুসন্ধানে যুগান্তরের ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেলওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করলে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ পাওয়া যায়নি। প্রচারিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণে ‘জানিয়েছেন’, ‘কর্মকাণ্ডের’, ‘দুঃখিত’ এরূপ শব্দ বিকৃত অবস্থায় দেখা যায়৷ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো ফটোকার্ড তৈরি বা সম্পাদনা করলে এরূপ অসংগতি দেখা যায়।

পাশাপাশি, প্রচারিত ফটোকার্ডটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’ এর ওয়েবসাইটে যাচাই করলে ফটোকার্ডটি ওপেনএআই এর এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি বলে জানা যায়।

অর্থাৎ, যুগান্তর এর ফটোকার্ড দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি এআই তৈরি।

সুতরাং, রেফারি নিয়ে সমালোচনা করায় মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান ইনস্টাগ্রামে ক্ষমা চেয়েছেন শীর্ষক দাবি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: