চার বিএনপি নেতাকে জড়িয়ে ২০টি নকল ফটোকার্ড ছড়ানোর নেপথ্যে একটি ফেসবুক পেজ

- বিএনপির চার নেতার নামে মোট ২০টি সম্পাদিত ফটোকার্ড শনাক্ত
- তারেক রহমানকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি, মোট ১৩টি ফটোকার্ড
- সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে তিনটি ফটোকার্ড
- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মাহদী আমিনকে নিয়ে দুটি করে ফটোকার্ড
- ১৩টি গণমাধ্যমের নামে এসব সম্পাদিত ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে
- অন্তত ১৪টি ফেসবুক গ্রুপে ফটোকার্ডগুলো ধারাবাহিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে
- ফটোকার্ড প্রচারের নেপথ্যে একটি নির্দিষ্ট ফেসবুক পেজ শনাক্ত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশে নানা প্রশ্ন, শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই গত বছরের ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন তৎপরতা বাড়তে থাকে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় হয়ে ওঠে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং নির্বাচন ঘিরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি, প্রচারণা ও নেতাদের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত দেশের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এরই মধ্যে এসব কর্মকাণ্ডকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের অপতথ্য ছড়াতে শুরু করে।
রিউমর স্ক্যানারের নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে এমনই একটি ফেসবুক পেজ শনাক্ত করা হয়। ‘লাইভ টিভি’ নামের ওই পেজ থেকে গণমাধ্যমের লোগো ও ডিজাইন ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে সম্পাদিত ফটোকার্ড তৈরি করা হয় এবং সেগুলো বিভিন্ন নামে থাকা অন্তত ১৪টি (১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯,১০,১১,১২,১৩,১৪) ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

ওই পেজ থেকে ছড়ানো ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে রিউমর স্ক্যানার বিএনপির চার নেতাকে জড়িয়ে মোট ২০টি সম্পাদিত ফটোকার্ড শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ফটোকার্ড ছড়ানো হয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে (১৩টি)। এছাড়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে তিনটি এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনের নামে দুটি করে সম্পাদিত ফটোকার্ড পাওয়া গেছে।

পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, এসব ২০টি ভুয়া ফটোকার্ড মোট ১৩টি গণমাধ্যমের নামে প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন টিভির নামে সবচেয়ে বেশি (৪টি) সম্পাদিত ফটোকার্ড ছড়ানো হয়েছে।

তারেক রহমানকে নিয়ে ছড়ানো সম্পাদিত ফটোকার্ড
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই ফেসবুক পেজ থেকে তারেক রহমানকে জড়িয়ে নয়টি গণমাধ্যমের নামে তেরোটি সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। পেজটি থেকে তাকে জড়িয়ে প্রথম ফটোকার্ডটি প্রচারিত হয় গত ২২ জানুয়ারি।
১। এখন টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড – ১
এখন টিভির লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় সিলেটের জনসভায় তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সংবিধানের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম পরিবর্তন করে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযুক্ত করা করে সকল ধর্মের মানুষ অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ২২ জানুয়ারির তারিখ ধরে এখন টিভির ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে নবী করিম (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী দেশ গঠন করা হবে’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
২। সমকালের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড
সমকালের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় সিলেটের জনসভায় তারেক রহমান বলেছেন, ‘ধানের শীষ বিজয়ী হলে স্বাধীনতার অকৃত্রিম বন্ধু ভারতের সাথে সম্পর্ক পূর্নস্থান করব।’
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ২২ জানুয়ারির তারিখ ধরে সমকালের ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘ধানের শীষ নির্বাচিত হলে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
৩। একাত্তর টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড – ১
একাত্তর টিভির লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় তারেক রহমান বলেছেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের বানানো লুটপাট প্রজেক্ট মেট্রোরেলের খরচ খুব বেশি, ক্ষমতায় আসলে জনগণের সুবিধার্থে মেট্রোরেল বন্ধ করে দিয়ে ডিজিটাল লোকাল বাস চালু করবো আমরা।’
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ২২ জানুয়ারির তারিখ ধরে একাত্তর টিভির ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মেট্রোরেল বন্ধ করে ডিজিটাল লোকাল বাস চালুর বিষয়ে তারেক রহমান কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, ট্রাফিক সমস্যা সমাধানে মেট্রোরেলের বিকল্প ব্যবস্থা চালুর প্রসঙ্গে গত ২০ জানুয়ারির এক বক্তব্যে তিনি মনোরেলের কথা বলেছেন বলে জানা যায়।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
৪। এখন টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড – ২
এখন টিভির লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় তারেক রহমান বলেছেন, ‘মেট্রোরেলে মেইনটেনেন্স, পরিবহন খরচসহ অন্যান্য বিষয় ব্যয়বহুল বিএনপির পরিকল্পনায় রয়েছে মেট্রোরেল বন্ধ করে মনোরেল চালু করার এতে খরচ কমে আসবে।’
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ২৪ জানুয়ারির তারিখ ধরে এখন টিভির ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘মেট্রোরেলে মেইনটেনেন্স, পরিবহন খরচসহ অন্যান্য বিষয় ব্যয়বহুল বিএনপির পরিকল্পনায় রয়েছে মনোরেল, এতে খরচ কমে আসবে’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমেও মেট্রোরেল বন্ধের বিষয়ে তারেক রহমানের কোনো বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
৫। আমার দেশের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড – ১
আমার দেশের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সারা দেশে নতুন করে ১২০০ কোটি টাকার বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ০৪ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধরে আমার দেশের ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘আজ বরিশাল যাচ্ছেন তারেক রহমান’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
৬।কালবেলার নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড – ১
কালবেলার লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সারা দেশে নতুন করে ১২০০ কোটি টাকার বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ০৪ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধরে কালবেলার ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘জনগণের রায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ চলবে’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
৭। যুগান্তরের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড
যুগান্তরের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় তারেক রহমান বলেছেন, ‘সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ সরিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযুক্ত করে সকল ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে বিএনপি’।
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ০৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধরে যুগান্তরের ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজন করবে বিএনপি’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
৮। চ্যানেল২৪-এর নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড
চ্যানেল২৪-এর লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করবে’।
ফটোকার্ডে কোনো তারিখের উল্লেখ না থাকলেও এটি প্রচারের তারিখ ০৬ ফেব্রুয়ারির সূত্র ধরে চ্যানেল২৪-এর ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘জুলাই সনদ আমরা অবশ্যই বাস্তবায়ন করব’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
৯। আমার দেশের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড – ২
আমার দেশের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলবে। বিপদে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের গুরুত্ব বেশি’।
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ০৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধরে আমার দেশের ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘বিএনপির ইশতেহারে প্রাধান্য পেল যে ৯ প্রতিশ্রুতি ও ৫১ দফা অঙ্গীকার’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বরং, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণাকালে তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সমতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সম্পর্কই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সম্মিলিত অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এ লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।’
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
১০। ডেইলি স্টারের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড
ডেইলি স্টারের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়েছে ‘ঢাকায় মেট্রোরেল বিকল্প হিসাবে মনোরেল তৈরির পরিকল্পনা, এছাড়াও বিমানবন্দরে নাম পরিবর্তন করে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখার ঘোষণা’।
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ০৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধরে ডেইলি স্টারের ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘বিএনপির ইশতেহারে ঢাকার জন্য যেসব পরিকল্পনা’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিএনপির ইশতেহারে যানবাহন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিদ্যমান মেট্রোরেলের পাশাপাশি ‘মনোরেল’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ওই প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
১১। এখন টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড – ৩
এখন টিভির লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় নীলফামারীর জনসভায় তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের প্রথম ঠিকানা বাংলাদেশ শেষ ঠিকানা হবে ভারত অথবা লন্ডন’।
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ০৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধরে এখন টিভির ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘আমাদের প্রথম ঠিকানা বাংলাদেশ, শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
১২। যমুনা টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড
যমুনা টিভির লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় তারেক রহমান বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গেলে যত দ্রুত সম্ভব ভারতের সাথে আলোচনা করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে’।
ফটোকার্ডে কোনো তারিখের উল্লেখ না থাকলেও এটি প্রচারের তারিখ ০৭ ফেব্রুয়ারির সূত্র ধরে যমুনা টিভির ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘ক্ষমতায় গেলে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন নীলফামারীতে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি ক্ষমতায় আসলে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে দাবি করেন তারেক রহমান। তবে ‘ভারতের সাথে আলোচনা’ শীর্ষক কথাটি বলেননি তিনি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
১৩। আমার দেশের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড – ৩
আমার দেশের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি জানি না আমারা কতটি আসন পাব। তবে যদি আমারা বিরোধীদলে থাকি, আমি আশা করি আমরা একটি ভালো বিরোধীদল হব।’।
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ০৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধরে আমার দেশের ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে তারেক রহমানকে উদ্বৃতি লেখা রয়েছে, ‘’আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে যদি তারা বিরোধীদলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধীদল হবে’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ছড়ানো সম্পাদিত ফটোকার্ড
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই ফেসবুক পেজ থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে দুইটি গণমাধ্যমের নামে দুইটি সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। পেজটি থেকে তাকে জড়িয়ে প্রথম ফটোকার্ডটি গত ২৬ জানুয়ারি প্রচারিত হয়।
১। একাত্তর টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড – ২
একাত্তর টিভির লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘বিএনপির দুশ্চিন্তার বড় কারণ এখন দলের ভেতরে ও ভোটের মাঠে জামায়াত-শিবিরের গুপ্ত ভােট, এই নীরব ভোট তাদের নির্বাচনী সমীকরণে চাপ সৃষ্টি করছে।’
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ২৬ জানুয়ারি তারিখ ধরে একাত্তর টিভির ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৮তম জন্মদিন আজ’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
২। ইনডিপেনডেন্ট টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড
ইনডিপেনডেন্ট টিভির লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে আমার বাবা আমাদের সবাইকে নিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল, আমাদের পরিবারের মতো অনেকেই সেসময় ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল।’
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ২৬ জানুয়ারি তারিখ ধরে ইনডিপেনডেন্ট টিভিরর ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘নতুন মার্কা এসেছে, তারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া গত ১০ নভেম্বর প্রকাশিত প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে মির্জা ফখরুলের ফেসবুক পোস্টের বরাতে জানানো হয় তিনি বলেছেন, ‘আমার আব্বা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ আমার নানাবাড়ি যান আমার দুই ছোট ভাই আর দুই বোন এবং মাকে নিয়ে। তারপর এপ্রিলে চলে যান ভারতের ইসলামপুরে! রিফিউজি ক্যাম্পে (শরণার্থীশিবির) ছিলেন যুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময়! ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও স্বাধীন হয়! আমার বাবা ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে আসেন তখনই! যখন ফিরে আসেন, দেখেন সব লুট হয়ে গেছে! আমার মরহুম মা তার গয়না বিক্রি করেন!’ অর্থাৎ, তার বক্তব্য অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পুরো সময় ভারতে ছিলেন শুধু তার বাবা, পুরো পরিবার নয়।
সুতরাং, মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে ছড়ানো সম্পাদিত ফটোকার্ড
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই ফেসবুক পেজ থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদকে জড়িয়ে তিনটি গণমাধ্যমের নামে তিনটি সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। পেজটি থেকে তাকে জড়িয়ে প্রথম ফটোকার্ডটি গত বছরের ৩ ডিসেম্বর প্রচারিত হয়।
১। প্রথম আলোর নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড
প্রথম আলোর লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘হাসিনা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করে ভারতীয় র এর হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছিল পরবর্তীতে র আমাকে তাদের পক্ষে কাজ করার প্রস্তাব দিলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করি’।
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখ ধরে প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘হাসিনা সরকার আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করেছিল’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার গুম করেছি’ শীর্ষক বক্তব্য দিলেও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-কে জড়িয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
২। বাংলাদেশ টাইমসের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড
বাংলাদেশ টাইমসের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে ভারতীয় হাইকমিশনার সহ বিশিষ্ট জন। বক্তব্য প্রদান করিবেন শুধু তারেক রহমান’।
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখ ধরে বাংলাদেশ টাইমসের ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘সংবর্ধনায় তারেক রহমান ছাড়া আর কেউ বক্তব্য দেবেন না’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া, ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ৩০০ ফিটে অনুষ্ঠিত তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারকে জড়িয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের এমন কোনো মন্তব্য অন্য কোনো মাধ্যমেও পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
৩। সমকালের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড – ২
সমকালের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা HSC পাশ হলেও সে রাজনীতিতে ডিগ্রিধারী নেতাদের চাইতেও অনেক বেশি মেধাবী বিএনপি নেতা’।
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ০২ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধরে সমকালের ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘যারা স্বাধীনতা চায়নি তারা বিভাজনে ব্যস্ত’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
মাহদী আমিনকে নিয়ে ছড়ানো সম্পাদিত ফটোকার্ড
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই ফেসবুক পেজ থেকে মাহদী আমিনকে জড়িয়ে দুইটি গণমাধ্যমের নামে দুইটি সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। পেজটি থেকে তাকে জড়িয়ে প্রথম ফটোকার্ডটি গত বছরের ৩ ডিসেম্বর প্রচারিত হয়।
১। বণিক বার্তার নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড
বণিক বার্তার লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় মাহদী আমিন বলেছেন, ‘বিএনপির দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে সাথে একমত না। তাদের জানা উচিৎ বিএনপি সর্বপ্রথম সন্ত্রাস দমনে র্যাব তৈরি করেছিল ২০০৪ সালে’।
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ২৬ জানুয়ারি তারিখ ধরে বণিক বার্তার ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিজ থানার বাইরে দায়িত্ব দেয়ার আহ্বান মাহদী আমিনের’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
২। এখন টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড – ৪
এখন টিভির লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয় মাহদী আমিন বলেছেন, ‘বিএনপি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে আওয়ামীলীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে’।
ফটোকার্ডে উল্লেখ থাকা ০৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধরে এখন টিভির ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে এমন শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ওই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘জামায়াত নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চেষ্টা করছে’। শিরোনাম ছাড়া বাকি সব উপাদানের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া মূল ফটোকার্ডের মন্তব্যঘরে সংযুক্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো মাধ্যমে দাবিকৃত বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম সম্পাদনা করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এসব অপতথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িত ফেসবুক পেজের নেপথ্য
সব সম্পাদিত ফটোকার্ড ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ‘লাইভ টিভি’ নামের ফেসবুক পেজটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পেজটি প্রথম চালু করা হয় ২০২০ সালের ২৮ জুন। পরবর্তীতে এটি একাধিকবার নাম পরিবর্তন করে। প্রথমে নাম দেওয়া হয় ‘মোহাম্মদ পলাশ’, পরে ‘Tempo Stand’ এবং সবশেষে গত বছরের ২৬ নভেম্বর আবার ‘লাইভ টিভি’ নাম দেওয়া হয়। বর্তমানে পেজটিতে প্রায় দুই হাজার ফলোয়ার রয়েছে।


