নির্বাচন বাতিল ও শেখ হাসিনা লাইভে আসার ভুয়া তথ্য প্রচার

সম্প্রতি, ‘আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ নির্বাচন বাতিল?? লাইভে সরাসরি যুক্ত আছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা লাইভ লিংক কমেন্টে’ শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাচন বাতিল করা হয়নি এবং শেখ হাসিনা লাইভে আসেননি। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুকের উক্ত দাবির কতিপয় পোস্টে একটি ব্লগপোস্টের লিংক সূত্র হিসেবে দেওয়া হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে ‘protibadnews76.blogspot.com’ নামের ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনের এই সাইটটি একটি ভূঁইফোড় সাইট বলে প্রতীয়মান হয়। সাইটে ‘কবে দেশে ফিরবেন-এ নিয়ে বিবিসি বাংলার সঙ্গে লাইভে কথা বললেন জননেত্রী শেখ হাসিনা’ শীর্ষক কথিত দাবির বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তবে এর প্রকাশকাল উল্লেখ নেই।
কথিত এই সংবাদে দাবি করা হয়, বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক লাইভ আলোচনায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজের দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময় নিয়ে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। লাইভ আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন নয় এবং দেশের সংকটময় সময়ে তিনি সবসময় জনগণের পাশেই থাকতে চান। দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর নির্ভর করছে। আমি বাংলাদেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি, ভবিষ্যতেও করব। সঠিক সময় এলে আমি অবশ্যই দেশের মাটিতে ফিরে জনগণের মুখোমুখি হব।” বিবিসি বাংলার উপস্থাপকরা জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন, নির্বাচন ইস্যু এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও লাইভ আলোচনায় কথা বলেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি গণতন্ত্র, সংবিধান এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার ওপর জোর দেন। বিশ্লেষকদের বরাতে বলা হয়, বিবিসি বাংলার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার এই লাইভ বক্তব্য আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। দেশে ফেরার সময় নিয়ে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট তারিখ না জানালেও তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গেছে। এদিকে এই লাইভ আলোচনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা।
উক্ত সংবাদে নির্বাচন বাতিলের বিষয়ে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় নি। এছাড়া, এতে শেখ হাসিনার লাইভ ভাষণের ভিডিও দাবিতে দুইটি ছবি যুক্ত করা হয়। ছবির ওপরে ক্লিক করলে বিভিন্ন জুয়ার সাইটে নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ফ্রি ডোমেইনের ব্লগসাইট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর এই পদ্ধতি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে।
সুতরাং, নির্বাচন বাতিন ও শেখ হাসিনার লাইভ ভাষণের দাবিটি ভুয়া ও বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- Rumor Scanner’s own analysis
বি.দ্র. নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য দ্রুত মোকাবেলার লক্ষ্যে এই প্রতিবেদনটি সংক্ষিপ্ত ফরমেটে প্রকাশ করা হয়েছে।

