ইবিতে শিবিরের কর্মীদের হাতে এক শিক্ষার্থী খুন দাবিতে বিবিসি বাংলার নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি ‘ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় শিবির কর্মিদের হাতে সাজিদ নামে এক শিক্ষার্থী খুন’ শিরোনামে মূলধারার গণমাধ্যম বিবিসি বাংলার ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় শিবির কর্মিদের হাতে সাজিদ নামে এক শিক্ষার্থী খুন’ শিরোনামে বিবিসি বাংলা কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, বিবিসি বাংলার প্রচলিত ফটোকার্ডের ডিজাইনের আদলে আলোচিত ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে বিবিসি বাংলার লোগো রয়েছে।

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি, বিবিসি বাংলার প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

তাছাড়া, বিবিসি বাংলা ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যমেও উক্ত দাবিকে সমর্থন করে এমন কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি৷

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে সাজিদ আবদুলাহ নামের এক শিক্ষার্থীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে মরদেহের ভিসেরা রিপোর্টে তাকে হত্যার প্রমাণ বলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যেকোনো ভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার লাশ পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে ভিসেরা রিপোর্টের বরাতে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন। গত ৪ আগস্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা করেন সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ দেলওয়ার। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলাটি প্রথমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পুলিশ তদন্ত করলেও পরে সিআইডিতে চলে যায়। তবে, কারা সাজিদকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো জানানো হয়নি।

সুতরাং, ‘ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় শিবির কর্মিদের হাতে সাজিদ নামে এক শিক্ষার্থী খুন’ শিরোনামে বিবিসি বাংলার নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: