শেরপুরে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম নিহত হওয়ার দাবিটি মিথ্যা 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল (২৮ জানুয়ারি) শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর–৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উক্ত সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন এবং এ ঘটনায় দুই দলের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা ‘উক্ত ঘটনায় শেরপুর ঝিনাইগাতী উপজেলার যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম মারা গেছেন’ শীর্ষক একটি দাবি ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে। 

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

থ্রেডসে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরাকেও ফেসবুকে পোস্ট দিতে দেখা যায়।

এছাড়া, ডিবিসি নিউজের সরাসরি সম্প্রচারে গণমাধ্যমটির শেরপুর জেলা প্রতিনিধি এস এম জুবায়েরও একই দাবি করেন।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শেরপুর ঝিনাইগাতী উপজেলায় জামায়াত-বিএনপির মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম মারা যাননি বরং, মারা যাওয়ার দাবিটি গুজব বলে তিনি নিজেই তার নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে নিশ্চিত করেছেন।

অনুসন্ধানের শুরুতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে সাইফুল ইসলামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আজ (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০ টা ৪৮ মিনিটে প্রচারিত একটি লাইভ ভিডিও পাওয়া যায়।

৩৪ সেকেন্ডের উক্ত লাইভে সাইফুল ইসলাম বলেন, “মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঝিনাইগাতী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক। কে বা কারা গুজব ছড়াইছে যে আমি মারা গেছি। আলহামদুলিল্লাহ! আমি বেঁচে আছি। আমি মারা যাযইনি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন! আর মারা গেছি এই কথাটা মিথ্যা, গুজব। দয়া করে গুজবে কাঁদ দিবেন না। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আমার জন্য দোয়া করবেন! আসসালামু আলাইকুম।”

সুতরাং, শেরপুর ঝিনাইগাতী উপজেলায় জামায়াত-বিএনপির মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সাইফুল ইসলাম মারা যাওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: