হাদির ওপর হামলায় সন্দেহভাজন ফয়সালের জামিনে শিশির মনির যুক্ত ছিলেন বলে মন্তব্য করেননি আসিফ নজরুল

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। এরপর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফয়সাল করিম ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। যেখানে দাবি করা হয় যে আসিফ নজরুল বলেছেন- ‘সন্ত্রাসী ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো প্রভাবশালী জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত উপরোল্লিখিত পোস্টটিতে ৬ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
এরূপ দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এছাড়াও, সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি মূলধারার গণমাধ্যম একুশে টিভির একটি টকশোতে দাবি করেন, হাদির (সন্দেহভাজন) হত্যাকারীকে (ফয়সাল করিম) জামিন করিয়েছেন শিশির মনির, সহযোগী ছিলেন কায়সার কামাল।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ‘সন্ত্রাসী ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো প্রভাবশালী জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির’ শীর্ষক মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে কোনোরকম নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আসিফ নজরুলের নামে আলোচিত ভুয়া এই মন্তব্যটি প্রচার করা হয়েছে। তাছাড়া, ফয়সাল করিমের জামিন করানো আইনজীবীদের মধ্যেও শিশির মনির ছিলেন না।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করেও মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে আসিফ নজরুল এরূপ কোনো মন্তব্য করে থাকলে তা মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচার করা হতো।
ওসমান হাদির ওপর হামলার সন্দেহভাজন ফয়সালকে নিয়ে আসিফ নজরুলের মন্তব্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে আসিফ নজরুলের ফেসবুক পেজে গত ১৭ ডিসেম্বরে করা একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টটিতে ফয়সাল করিমের জামিনের বিষয়ে তিনি লিখেন, ‘..ফয়সাল করিম মাসুদ গতবছর জামিন পেয়েছিল অস্ত্র মামলায়। হাইকোর্টে অস্ত্র মামলার জামিন সহজে হওয়ার কথা নয়। এটি তখনই হতে পারে যখন প্রভাবশালী আইনজীবীরা এসব মামলায় জামিন দেয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এই আইনজীবীরা অধিকাংশই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা। অভিযোগ রয়েছে যে তাদের প্রভাবে এসব জামিন হওয়া সহজতর হয়।…’ এরই প্রেক্ষিতে মূলধারার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হতেও দেখা যায়।
আসিফ নজরুলের এই পোস্টে কোথাও আসন্ন নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের নাম উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, ফয়সাল করিমের জামিন করানো আইনজীবীদের বিষয়ে অনুসন্ধানে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের সূত্রে অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, ‘ফয়সাল করিম মাসুদ ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর ডাকাতির সময় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হলে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়। এরপর ফয়সাল করিমের জামিনের জন্য এডভোকেট কায়সার কামাল এবং এডভোকেট মাহফুজুর রহমান আবেদন করলে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকার্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী এবং বিচারপতি এসকে তাহসিন আলী ৬ মাসের জামিনের আদেশ দেন। এরপর চলতি বছরের ১২ আগস্ট জামিনের সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য পুনরায় আবেদন করলে নতুন করে এক বছরের জামিন মঞ্জুর করে বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমনের বেঞ্চ।
সুতরাং, আসিফ নজরুল ‘সন্ত্রাসী ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো প্রভাবশালী জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির’ বলে মন্তব্য করেছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Dr. Asif Nazrul – Facebook Post
- Prothom Alo – বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে দেওয়া কিছু জামিন মানুষের জীবন বিপন্ন করছে: আসিফ নজরুল
- The Dissent – Facebook Post
- Rumor Scanner’s analysis

