ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে জামায়াত নেতা নিয়াজ মাহমুদ যোগ দিয়েছেন দাবিতে আমার দেশের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা নিয়াজ মাহমুদের ছবি সংযুক্ত করে ‘ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিলেন জামায়াত-শিবির নেতা’ শিরোনামে সংবাদমাধ্যম আমার দেশের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

আমার দেশের লোগো সংবলিত ফটোকার্ড ছাড়াও ফেসবুকে আলোচিত দাবি প্রচার করা হয়েছে। দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে জামায়াত নেতা নিয়াজ মাহমুদ যোগ দিয়েছেন দাবিতে আমার দেশ এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় আমার দেশের ফটোকার্ড ডিজাইনের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে ভুয়া এই দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার দাবি মিথ্যা বলেছেন স্বয়ং নিয়াজ মাহমুদ।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডে আমার দেশের লোগো ও তারিখ হিসেবে ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ থাকার সূত্রে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত তথ্য সংবলিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজের ফটোকার্ডগুলোর সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের ফন্টের মিল থাকলেও ফন্টের গাঢ়ত্ব ও আকারে খানিকটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

পাশাপাশি অন্য গণমাধ্যম এবং বিশ্বস্ত সূত্রগুলোর বরাতেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি৷

এ বিষয়ে নিয়াজ মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করলে গত ১৭ জানুয়ারিতে এ বিষয়ে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমি মোহাম্মদ নিয়াজ মাহমুদ বেগ। একটি ফেসবুক পোস্ট আমার দৃষ্টিগোচর হয়। যেখানে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয় বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনে আমি যোগদান করেছি। ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা কথা। আমি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইতিপূর্বেও আমার সম্পর্কে এমন পোস্ট করা হয়েছিল। আমি ছাত্র জীবনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করি এবং কর্মজীবনে পদার্পণ করার সাথে সাথেই বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শুরু করি । অদ্যবধি আমি বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর সহিত যুক্ত আছি।আমি কখনোই ইসলামী আন্দোলন তো দূরের কথা অন্য কোন সংগঠনেই যোগদান করিনি। আমার চরমোনাই মাদ্রাসায় পড়ার সুবাদে মাওলানা ফয়জুল করিম সাহেবের সহিত একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, কেহ কেহ এই সম্পর্কটাকে পুঁজি করে আমার সাংগঠনিক জীবনকে কালিমাযুক্ত করার চেষ্টা করছে।..’

উল্লেখ্য, অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম ইনকিলাবের ওয়েবসাইটে ‘ইসলামী আন্দোলনে দুইশতাধিক নেতাকর্মী যোগদান’ শিরোনামে ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন পাওয়া যায় যেখানে দাবি করা হয়েছে, ‘বরিশাল সদরে বিভিন্ন সংগঠনের ২শতাধিক নেতাকর্মী চরমোনাই মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে দলের সদস্য ফরম পুরণ করে নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের হাতে সদস্য ফরম হস্তান্তর করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ করেছেন। যোগদানকারীর মধ্যে রয়েছেন (…) ব্যবসায়ী বরিশাল সিটি ৩০নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও এয়ারপোর্ট থানা সভাপতি নিয়াজ মাহমুদ।’

সুতরাং, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে জামায়াত নেতা নিয়াজ মাহমুদ যোগ দিয়েছেন দাবিতে আমার দেশের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

তথ্যসূত্র

Share: