ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর আইন চালু করতে চাই শীর্ষক মন্তব্য করেননি জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা -১ আসনে সনাতন ধর্মালম্বী কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর আইন চালু করতে চাই : জামাত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী’ শীর্ষক দাবিতে কৃষ্ণ নন্দীর ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।


উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, “ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর আইন চালু করতে চাই : জামাত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী” বলে খুলনা-১ আসনের জামায়াত ইসলামী প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে সূত্রপাত হওয়া পোস্টকে আসল খবর দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ সংক্রান্ত দাবিটির সূত্রপাত অনুসন্ধানে Daily Mollar Desh নামের একটি ফেসবুক পেজে ০৪ ডিসেম্বরে ২০২৫ এ প্রকাশিত এ সংক্রান্ত মূল ফটোকার্ডটির সন্ধান মেলে। তবে, পোস্টে এ বিষয়ে কোনো সূত্র বা প্রমাণ উল্লেখ পাওয়া যায়নি৷ ‘Daily Mollar Desh’ পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে পেজের বায়োতে উল্লেখ পাওয়া যায়, ‘গণতন্ত্র নিপাত যাক – মোল্লাতন্ত্র মুক্তিপাক’।

এছাড়াও, পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এরূপ আরও অনেক ব্যাঙ্গাত্মক/ভিত্তিহীন ভুয়া পোস্ট পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আলোচিত পোস্টটিও মূলত ব্যাঙ্গাত্মক/ভিত্তিহীন ভুয়া কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর বিষয়ে গত ০৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, হিন্দু-অধ্যুষিত খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনে এবারের নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের আটজন প্রার্থী মাঠে আছেন। জামায়াতে ইসলামী প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে এখানে প্রার্থী করেছে। ইতিমধ্যে ভোটারদের মন জয়ে তিনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি হিন্দুদের নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

সুতরাং, কৃষ্ণ নন্দী “ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর আইন চালু করতে চাই” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: