‘সাহাব বিদ্বেষী দলে যোগ দিলেন আলী হাসান উসামা’ শিরোনামে আমার দেশ এর নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

গত ১৭ জানুয়ারি ‘সাহাব বিদ্বেষী দলে যোগ দিলেন আজমতে সাহাবর সংগঠক আলী হাসান উসামা’ শিরোনামে সংবাদমাধ্যম আমার দেশের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘সাহাব বিদ্বেষী দলে যোগ দিলেন আজমতে সাহাবর সংগঠক আলী হাসান উসামা’ শিরোনামে আমার দেশ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, আমার দেশ এর ভিন্ন একটি ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তার সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে আমার দেশ এর লোগো ও প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১৭জানুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ রয়েছে। এরই সূত্র ধরে আমার দেশের ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে এ সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, আমার দেশ এর ফেসবুক পেজে গত ১৭ জানুয়ারিতে ‘জামায়াতে যোগ দিলেন মুফতি আলী হাসান উসামা’ শিরোনাম সংবলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ও তারিখ ব্যতীত ডিজাইন এর মিল রয়েছে। আমার দেশের মূল ফটোকার্ডটিতে ‘জামায়াতে যোগ দিলেন মুফতি আলী হাসান উসামা’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘সাহাব বিদ্বেষী দলে যোগ দিলেন আজমতে সাহাবর সংগঠক আলী হাসান উসামা’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আমার দেশের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সম্বলিত আমার দেশের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতি আলী হাসান উসামা। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জামায়াত কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী দাওয়াহ্ সেন্টারের চেয়ারম্যান মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী। আমার দেশের উক্ত প্রতিবেদনেও আলোচিত দাবির কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ‘সাহাব বিদ্বেষী দলে যোগ দিলেন আজমতে সাহাবর সংগঠক আলী হাসান উসামা’ শিরোনামে আমার দেশের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: