মহিলা মাদ্রাসা থেকে বোরকা পরা শিবির নেতা আটক সংক্রান্ত বক্তব্য দাবিতে সেনাসদস্যের ভিডিওটি এআই নির্মিত 

সম্প্রতি সামাজিক নেটওয়ার্ক টিকটকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়, যেখানে একজন সেনাসদস্যকে বলতে শোনা যায়, “মহিলা মাদ্রাসার লাইব্রেরি থেকে বোরকা পরা শিবির নেতা আটক”

টিকটিকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)। ভিডিওটি এখন পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে কোনো বিশ্বস্ত সূত্র বা স্বীকৃত গণমাধ্যমে উক্ত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রচারিত ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। ভিডিওতে উপস্থিত সেনাসদস্যের কণ্ঠ ও অঙ্গভঙ্গি স্বাভাবিক নয় এবং তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এছাড়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাধারণত সাংবাদিকদের মতো হাতে বুম বা মাইক্রোফোন নিয়ে বক্তব্য দেন না। ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডে দৃশ্যমান কিছু লেখাও অস্পষ্ট, বিকৃত ও অর্থহীন যার সঙ্গে প্রমিত বাংলা লেখার কোনো মিল নেই। এ ধরনের অস্পষ্ট ও বিকৃত বাংলা লেখা প্রায়ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে নির্মিত কন্টেন্টে দেখা যায়।

পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশনে বিশ্লেষণ করা হয়। প্রচারিত ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওটির একটি ১০ সেকেন্ডের নির্দিষ্ট ফ্রেম আলাদাভাবে যাচাই করলে দেখা যায় উক্ত অংশে ব্যবহৃত বক্তব্যটি এআই জেনারেটেড হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

এছাড়া ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলেও, সেনাসদস্যের এমন কোনো ভিডিও বা বক্তব্যের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, মহিলা মাদ্রাসার লাইব্রেরি থেকে বোরকা পরা শিবির নেতা আটকের দাবি করে প্রচারিত সেনাসদস্যের ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি।

তথ্যসূত্র

Share: